বরগুনা
মা ও দুই শিশুর মৃত্যু, তদন্তে ভরসা এখন ‘ময়নাতদন্ত’

সংগৃহীত ছবি
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের এক মাসের বেশি সময় পেরোলেও রহস্যের কূলকিনারা পায়নি পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতির জন্য এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে প্রতিবেদন কবে হাতে পাওয়া যাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত সময় জানাতে পারেনি পুলিশ।
দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মামলার বাদী ও বরগুনা সদর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি পৃথক কক্ষ থেকে ইতি রানী এবং তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাত দিন পর ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ডাকবাংলোতে যাতায়াতকারী কিংবা সেখানে কর্মরত কারও মাধ্যমে অজ্ঞাত কারণে তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তবে ঘটনার দিন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা প্রাথমিকভাবে ধারণা করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সন্তানদের হত্যার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। সে সময় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করেছিল।
ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ নেওয়াজ বললেন, তদন্ত কার্যক্রম চলমান। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর সেই সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রগতি সম্ভব হবে, যোগ করেন তিনি।
ঘটনার আগের দিনগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেসব ফুটেজ পর্যালোচনা করা অনেক সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এখনো করা হয়নি।
মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের ভাষ্য, এক মাসের বেশি সময় পার হলেও তদন্তে তেমন অগ্রগতি দেখছি না। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বরগুনা জেলা শাখার সদস্যসচিব জয়দেব রায় বললেন, মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি জেলাজুড়ে বেশ আলোচিত। সাধারণ মানুষ প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বললেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাব। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত শেষ করা হবে।




