শার্শায় ইউটিউব দেখে আঙুর চাষে সাফল্য

ছবি: আগামীর সময়
সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি ইউরোপ বা ভারতের কোনো আঙুর বাগান। কিন্তু না, বিদেশি এই ফলের এমন চোখজুড়ানো ফলন হয়েছে আমাদের দেশের মাটিতেই। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ইমন হোসেন।
উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের রাজনগর চোকগ্রামের বাসিন্দা ইমন হোসেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকের ঘটনা; ইউটিউবে আঙুর চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এই ফল চাষের প্রতি দারুণ আগ্রহ জাগে তাঁর। এরপর আর সময় নষ্ট না করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে উন্নত জাতের ‘বাইকুনুর’ আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন তিনি।
ইমন তাঁর ৩৩ শতক (প্রায় এক বিঘা) জমিতে ১০০টি চারা রোপণের মাধ্যমে মাচাং পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে এলাকার অনেকেই দেশের মাটিতে আঙুর চাষের এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে দমে যাননি ইমন। তাঁর নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা আর কঠোর পরিশ্রমে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বাগানের গাছগুলো ভরে গেছে আঙুরের থোকায়। এই বাগান গড়তে ইমনের মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এখন তাঁর বাগান থেকেই সরাসরি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, 'শার্শায় আগে কখনো এমন আঙুরের বাগান দেখা যায়নি। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন। অনেকেই এখন আঙুর চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন এবং নিজেরাও চাষ করার স্বপ্ন দেখছেন।'
সাফল্যের হাসিমুখে তরুণ উদ্যোক্তা ইমন হোসেনের ভাষ্য, 'ইউটিউব দেখেই আমি এই চাষের সাহস পেয়েছিলাম। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করলেও এখন ফলন দেখে সবাই অবাক। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সেই সাথে অন্য তরুণদেরও এই কাজে উৎসাহিত করার ইচ্ছে আছে।'
ইমনের এই সফলতায় উপজেলার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি অর্থবছরে এই উপজেলায় প্রায় ৪ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। প্রতি বছর একই বাগান থেকে দুই বার করে আঙুরের ফলন পাওয়া সম্ভব। ইমনের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিমধ্যে এই উপজেলায় আরও ৬ জন নতুন উদ্যোক্তা আঙুর চাষ শুরু করেছেন।
কৃষি কর্মকর্তা বললেন, 'দেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন ফলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করবে এক নতুন মাত্রা।'




