টঙ্গীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী হাসপাতালে

শয্যা খালি না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে ডেঙ্গু রোগী
গাজীপুরের টঙ্গীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হয়েছেন।
শয্যা খালি না থাকায় মশারি ছাড়াই হাসপাতালের মেঝেতে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন।
তাদের মধ্যে ৩৯ জন নারী, ২১ জন পুরুষ ও ১৪ জন শিশু। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১৬ জন রোগী বাড়ি ফিরেছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ষষ্ঠ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেও বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে মধুমিতা, টিএনটি, স্টেশন রোড, মিলগেট, পাগাড় ও এরশাদনগরসহ আশপাশের এলাকার রোগীর সংখ্যা বেশি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগী অনেক বেশি হওয়ায় হাসপাতালের ভেতরে জায়গার সংকট রয়েছে।’
একই ধরনের কথা জানান চিকিৎসাধীন নারী রোগী সোনিয়াও।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আফজালুর রহমান জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে তিন থেকে চারশ রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। যাদের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা বা আশপাশে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, নিয়মিত মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং যেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করতে হবে।



