হরিরামপুরে পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব কয়েকশ পরিবার

পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে মানুষ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। গত ১০ থেকে ১২ দিনে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকায় তীব্র ভাঙনে প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে আরও কয়েকশ পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কেউ। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি কোনো আপদকালীন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দুই মাস আগে পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। তবে তখন ভাঙনের তীব্রতা কম ছিল। গত ১০ থেকে ১২ দিনে পানি দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন।
কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন মন্ডল বলেছেন, ‘গত কয়েকদিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনীতেই ৮০ পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। নদীর পাড়ে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে।’
পেশায় মোটরসাইকেলচালক জিন্নাহ বললেন, ‘ভাঙনের কথা বলতে গেলে বুকটা ফেটে আসে। একে একে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। ভাঙতে ভাঙতে আর কিছু নাই। বুকটা ফেটে আসে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চরাঞ্চলের এই এলাকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা যেন পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।’
জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বললেন, ‘প্রতিবছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। এর আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তাতে কোনো কাজে আসেনি। সরকারের কাছে দাবি, জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।’
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, ‘গত বছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এ বছরও গত কয়েক দিনে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা বলেছে, আমরা দেখছি কী করা যায়।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বললেন, ‘এ বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমরা করব।’
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের জন্য স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করতে এলাকাটি ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এতে যে রিপোর্ট আসবে, তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বললেন, ‘আমি সরেজমিনে যেতে না পারলেও সবসময়ই খোঁজখবর রাখছি। আজ-কালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা যাবেন পরিদর্শনে। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ এনেছি। সেগুলোও দ্রুত বিতরণ করা হবে।’





