সৈয়দপুর
গুদাম সিলগালা, তবু উধাও ৯৯ টন কীটনাশক

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর সিলগালা করা গুদাম থেকে প্রশাসনের জব্দকৃত ২ কোটি টাকার ৯৯ মেট্টিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাওয়ের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩ সদস্যের তদন্ত দল গুদাম ও আশপাশের অন্যান্য গুদাম ও এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।
বিসিকের পরিচালক আরিফুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত দলে আরও ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন ও সারোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর উপ-পরিচালক নুরেল হক, সৈয়দপুর শিল্প নগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ, থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণ ও এসআই মনিরুজ্জামান।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ২৫ জুন সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটা গুদাম থেকে সরকার নিষিদ্ধ এসিআই কোম্পানির বিফার ৫ জি বালাইনাশক গোপনে সরিয়ে ফেলার সময় প্রশাসন অভিযান চালায়। এ সময় ট্রাকে লোড করা ও গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা মোট ৯৯ মেট্টিক টন কীটনাশক আটক করা হয়। পরে ট্রাক থেকে নামিয়ে সব কীটনাশক জব্দ করে গুদামে রেখে সিলগালা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার, র্যাব ও পুলিশ সদস্যসহ সংবাদকর্মীরা।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত এসিআই কোম্পানির সৈয়দপুর উপজেলা ডিলার মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারকে আটক করা হয়। তিনি মামলায় ৫৬ দিন জেল খেটে জামিনে বের হন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আর সিলগালা তালার চাবি মামলার বাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণের জিম্মায় দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নীলফামারীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান সৈয়দপুর বিসিকের গুদামে রক্ষিত নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করার জন্য আসেন। তিনি বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে গুদামে ঢুকে দেখেন সেখানে কীটনাশক নেই। মাত্র ১২৩টি ১ কেজির প্যাকেট মেঝেতে পড়ে আছে। যা ছেঁড়া ফাটা ও ছড়ানো ছিটানো। কয়েকটি প্যাকেট বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে গুদাম আবার তালাবদ্ধ করেন। যা অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করা হয়।
মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জব্দকৃত মালামাল সিলগালা করা ছিল। কে বা কারা কীটনাশক সরিয়েছে বলতে পারছি না।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের প্রেক্ষিতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ৩ সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়। আজ সেই তদন্ত দল আসে সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীতে।
তদন্ত কার্যক্রম শেষে তদন্ত দলের প্রধান বিসিকের পরিচালক আরিফুল হক বললেন, সার্বিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং সরাসরি সবকিছু দেখেছি। এসব পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।





