ঈদযাত্রা
পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন কুষ্টিয়ার বাপ্পী। কিন্তু পাটুরিয়া ঘাটে এসে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তার বাসটি ফেরিতে উঠতে পারেনি। কারণ হিসেবে তিনি বলছিলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে ঘাটে এসে শুনি, ফেরি বন্ধ। তবে ফেরি চালু হওয়ার পর চার ঘণ্টা পার হলেও এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি।গত কয়েক বছর এই নৌরুটে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি তেমন ছিল না। আজকে বৃষ্টির কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাটে বাসের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৪টার দিকে পাটুরিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এই প্রতিবেদককে এসব কথা বললেন বাপ্পী।
পাটুরিয়া ঘাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের আরসিএল মোড় ছাড়িয়ে গেছে বাসের দীর্ঘ সারি। এখানে শতাধিক বাস পারের অপেক্ষায়। অন্যদিকে ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ৫০ থেকে ৭০টির মতো ছোট গাড়ি ও ৫০টির মতো ট্রাকও রয়েছে পারের অপেক্ষায়। কিন্তু ঘাটে আসার ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফেরিতে উঠতে পারছেন সাধারণ যাত্রী।
ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। নৌরুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি চলাচল করছে। তবে আজকে বেলা ১১টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্ধ ছিল ফেরি চলাচল। এতে ঘাট এলাকায় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, ৫০ থেকে ৭০টির মতো ছোট গাড়ি ও ৫০টির মতো ট্রাক আটকে পড়ে। তবে ফেরি চালুর পর থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
বাসচালক হালিম মিয়া জানালেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছি। চার ঘণ্টা পর ফেরিতে ওঠার জন্য সিরিয়ালে রয়েছি।
কুষ্টিয়াগামী যাত্রী সাইফুর রহমানের ভাষ্য, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর এ ফেরিঘাটে ঈদের সময় স্বস্তিতেই পার হয়েছি। এবার ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছি, তবে ঘাটে এসে সাড়ে ৩ ঘণ্টা পার হলেও ফেরিতে ওঠার সুযোগ হয়নি আমাদের বাসটির। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ ভোগান্তিই হচ্ছে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ডিজিএম মো. আবদুস সালাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘বিগত বছরের মতো ঈদের সময় পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার করতে হয় না। আজকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। তাই কিছু যানবাহন আটকে গেছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস থেমে যাওয়ার পরই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। পর্যাক্রমে যানবাহন পার করা হচ্ছে।






