৬০ দিনের ছায়া তদন্তে আসমা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

গ্রেপ্তার দুই আসামি ইকরামুল শেখ ও মীর আলী। ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘ ৬০ দিনের ছায়া তদন্তের পর চা বিক্রেতা আসমা বেগম (৩৯) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আসমাকে মোংলা থেকে খুলনার দাকোপে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন তারা। গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আসমার চায়ের দোকানে যাতায়াত ছিল গ্রেপ্তার দুজনের। এ সুবাদে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ও টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আসমাকে মোংলা থেকে দাকোপে ডেকে নিয়ে যান তারা। সেখানে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এরপরও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইকরামুল শেখ ও মীর আলীর অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়। এ সময় নিহত আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুই সন্তানের জননী আসমা বেগমের বাড়ি মোংলার মালগাজী এলাকায়। তিনি ফেরিঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন। গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ১৬ আগস্ট মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।
এরপর গত ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সে সময় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আলামত হিসেবে নাকফুল ও পরনের কাপড়ের ছবি সংরক্ষণ করে রাখে পুলিশ।
ওই ছবি ও তথ্যের সূত্র ধরে মোংলা থানা পুলিশ ছায়া তদন্তে নামে। একপর্যায়ে নিখোঁজ আসমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত কাপড়ের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের কাপড়ের মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পরে বিশেষ ধরনের নাকফুলের ছবি স্বজনদের দেখানো হলে তারা মরদেহটি আসমার বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ইকরামুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মীর আলীকে ধরা হয়।
মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন তদন্ত চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিহত আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



