ঝিনাইদহের বীজহীন লেবু সারা দেশে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কম খরচে বেশি লাভের আশায় ঝিনাইদহে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে বীজহীন লেবুর চাষ। বারোমাসি ফলন, সুগন্ধ ও স্বাদের কারণে বাজারে রয়েছে এ লেবুর চাহিদা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন চাষিরা। এ লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক।
এমনই একজন সদর উপজেলার গান্না এলাকার কৃষক ও উদ্যোক্তা আলতাফ হোসেন। প্রায় ১০ বছর আগে দুই একর জমিতে বীজহীন কাগজি লেবুর চাষ শুরু করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা চারা রোপণের পর সার, ওষুধ ও পরিচর্যায় বিনিয়োগ করেন। গাছে ফলন আসতে শুরু করলে শ্রমিকদের মাধ্যমে লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন ঢাকায়।
আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, তার বাগানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। লেবু চাষে লাভ হওয়ায় আরও ছয় বিঘা জমিতে চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। বাগানসহ কৃষিকাজের পরিচর্যায় নিয়োজিত রেখেছেন ১৫ জন কর্মচারী।
আলতাফ হোসেনের ভাষ্য, আগে সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হতো। কৃষিকাজ করেই এখন তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন।
এদিকে তাকে দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও লেবু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের একজন উকিল মোল্লা। তিনি জানিয়েছেন, আলতাফ হোসেনের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে লেবু চাষ শুরু করেছেন। গাছে ফলন এলে বাজারে বিক্রি করে আয় করার আশা করছেন তিনি।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেছেন, জেলায় মোট ১৪৫ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়। এর মধ্যে সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে সিডলেস লেবু চাষ হচ্ছে। এ চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং ফলন ও লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।



