নোয়াখালী
বৈদ্যুতিক তার চুরিকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫

সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছাতারপাইয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন নাথ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সোহেল। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতারপাইয়া পশ্চিমপাড়ার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করেন। পরে ওই বাড়ি থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন ওই মিস্ত্রিকে সন্দেহ করলে বাজারে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি দুই পাড়ার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিমপাড়ার লোকজন বাজারে জড়ো হন। একই সময়ে পূর্বপাড়ার বাসিন্দারাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, সংঘর্ষ চলাকালে ছাতারপাইয়া বাজার ও সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাজারের অন্তত ৪০টি দোকানের শাটার ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যোগ দিলে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পরও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার জানালেন, বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






