রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের পাহাড় ধসে নিহত ৫, মাটিচাপা অনেকে

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধার অভিযান চলছে। ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় পাহাড় ধসে অন্তত পাঁচ ছাত্রী নিহত হয়েছে। অনেকে এখনও মাটিচাপা অবস্থায় আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর।
ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কয়েকটি সূত্রে সেখানে ৮০ থেকে ১০০ জন শিশু থাকার দাবিও করা হয়েছে। তবে আটকে পড়াদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে বেশিরভাগই কাঁদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জন নিরাপদে বেরিয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল্লাহর দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্প-৫ এর ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তার ভাষ্য, ‘এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনো উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। মাটির নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭) নিহত হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার ভোররাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হন আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি। একই পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এদিন বিকালে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলমের ঝিরি এলাকায় পাহাড় ধসে ঘরের ভেতর মাটিচাপা পড়ে মারা যায় ৭ বছরের মিনহাজ।
এদিকে আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।





