রৌমারী
পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে কাঠের সাঁকো, ভোগান্তি ১১ গ্রামের মানুষের

ছবি: আগামীর সময়
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ কাঠের সাঁকো ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের অন্তত ১১ গ্রামের মানুষের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে জিঞ্জিরাম নদী ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতেন এলাকাবাসী। পরে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ কমাতে নদীর ওপর কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। গত দুই বছর ধরে এটি ছিল স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিম উদ্দিন জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় যাদুরচর ইউনিয়নের লালকুড়া, বকবান্দা, ব্যাপাড়ীপাড়া, বকবান্দা নামাপাড়া, খেওয়ারচর, আগলারচর, ঝাউবাড়ী ও পাঠাধোয়াপাড়াসহ প্রায় ১১টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবা নিতে এখন বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, পাহাড়ি ঢল ও কচুরিপানার চাপে সাঁকোটির মাঝখানের অংশ ভেঙে যায়। বর্তমানে এলাকাবাসী নানা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তিনি দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানান।
যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী জানান, স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কচুরিপানার চাপে এটি ভেঙে যায়। এখন স্থানীয়রা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলশিক্ষার্থীরা।
তিনি জানান, সাঁকোটি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে কিছু অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা জানান, সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন পেলেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরু হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের মতে, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত প্রকল্পের আওতায় মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।




