বেতাগীতে শিক্ষক সংকটে থমকে প্রাথমিকের পাঠ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বহুমাত্রিক জনবল সংকট। ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৩টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রতি চারটি বিদ্যালয়ের প্রায় তিনটিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। আবার সহকারী শিক্ষক, দপ্তরি কাম প্রহরী থেকে শুরু করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার পদও শূন্য দীর্ঘদিন। যার প্রভাব পড়ছে পাঠদানসহ শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশে।
শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশ চলছে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বের ভিত্তিতে। ৪০টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষক হিসেবে। ফলে একই শিক্ষককে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে।
তবে সংকট শুধু প্রধান শিক্ষকেই সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৬৯৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৭০ জন। অর্থাৎ ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। সংখ্যাটি তুলনামূলক কম মনে হলেও, প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে হওয়ায় এ ঘাটতির প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
শিক্ষক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহায়ক জনবলের ঘাটতিও। উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৬টিতে দপ্তরি কাম প্রহরীর পদ শূন্য। কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩ জন। ফলে বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, দাপ্তরিক সহায়ক কাজসহ দৈনন্দিন দায়িত্বেও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে।
দক্ষিণ বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শুধু শিক্ষক থাকলেই হয় না, প্রয়োজন পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীও। দপ্তরি না থাকায় বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক কাজ করতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের।’ তার মতে, দ্রুত এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষকরা আরও বেশি সময় ও মনোযোগ পাঠদানে দিতে পারবেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নিজাম উদ্দিনের দাবি, জনবল সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। শূন্য পদগুলো পূরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সমন্বয় চলছে। বিদ্যালয়গুলোতে যাতে পাঠদান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও দেওয়া হচ্ছে গুরুত্ব। তিনি আশা করেন, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শূন্য পদ পূরণ হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।







