আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেই লতা রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই অসহায় লতা রানীর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন। দৈনিক আগামীর সময়ে তাঁর দুর্দশার খবর প্রকাশের পর তাকে শাড়ি ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং রামজীবন কুন্ডুর সহযোগিতায় লতা রানীকে চারটি শাড়ি দেওয়া হয়। পাশাপাশি চাল, ডাল, চিড়া, তেল, গ্যাস লাইট, মোমবাতি ও খাবার স্যালাইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রেসক্লাব রাজারহাটের সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মণ্ডল সৈকতের মাধ্যমে এসব সহায়তা তার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবীব ও দৈনিক আগামীর সময়ের রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল নোমান।
৫৩ বছর বয়সী লতা রানী উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের ডাংহাট গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী মারা যাওয়ার পর গত ১৫ বছর ধরে তিনি একটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে বসবাস করছেন। দরজা-জানালা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তিনি। এজন্য প্রতিবেশীর বাড়ির বারান্দায় রাত কাটাতে হয় তাঁকে। দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লতা রানী বলেছেন, মোর কষ্টের ভিডিও করি নিয়া গেইছে, মানুষ দেখি মোক শাড়ি দিছে, ইউএনও খাবার দিছে—মুই খুব খুশি হইছোং।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রামজীবন কুন্ডু বলেছেন, "আগামীর সময়ে একটি ভিডিওতে রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের এক অসহায় হিন্দু মহিলার চিত্র দেখে আমি বিস্মিত হই। সাথে সাথে ইউএনওর মাধ্যমে চারটি শাড়ি পাঠাই, পরবর্তীতে তার বাড়ি যেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তার জন্য আর কি করা যায়"।
তবে সাময়িক সহায়তা পেলেও লতা রানীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন একটি নিরাপদ স্থায়ী বাসস্থান। তাঁর জন্য স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




