ভারতকে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি গেলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আজ শুক্রবার বিকালে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনাও জানান।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বললেন, সীমান্তে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ভারত তাদের হত্যা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।
সরকারের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন, শুধু কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ভারতের সামনে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং উন্নত বেতন-ভাতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উল্লেখ করেন, সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে আগামীর বাংলাদেশে তা আর হতে দেওয়া হবে না।
সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, সীমান্তের প্রত্যেক নাগরিককে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে একজন বিজিবি সদস্যের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তার ভাষ্য, সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। সীমান্তে ১০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করলে তাদের সহায়তায় হাজারো মানুষ এগিয়ে আসতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে সারজিস আলম বললেন, বিএনপি যদি জনগণ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে, তাহলে এনসিপি শুধু বিরোধীদল নয়, বাংলাদেশের ছাত্রজনতাও তাদের পাশে থাকবে।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




