শাহজালাল মাজার
দানবাক্সের চিঠিতে ‘দুলাভাই প্রধানমন্ত্রী’, ডিসি সারওয়ারকে ফেরানোর দাবি

কোলাজ : আগামীর সময়
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। দানের টাকা গোনার সময় টাকার সঙ্গে বেশ কয়েকটি চিঠি ও চিরকুট পাওয়া গেছে।
একজন প্রধানমন্ত্রীকে ‘দুলাভাই’ আখ্যায়িত করে নানা দাবি জানিয়েছেন। আরেকজন খোকন নামের একজনকে ‘বাটপার’ উল্লেখ করে চেয়েছেন বিচার। সিলেটের আগের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবিও রয়েছে চিঠি ও চিরকুটে।
দানবাক্সে ধর্মীয় ও তান্ত্রিক প্রতীকের রহস্যময় এক চিরকুটও পাওয়া গেছে। যাতে তারকাচিহ্নের ভেতরে লেখা রয়েছে- ‘মন্ত্রী মিনিস্টার’।
মাজারের দানবাক্সে পাওয়া এসব চিরকুটে ভক্তদের নানা আর্তি ও অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। কেউ লিখেছেন চাকরি পেলে মাজারে খাসি দান করবেন, আবার কোনো চিরকুটে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেউ মাজারের পশু কেনাবেচায় তছরুপ ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনেছেন। এরমধ্যে আলোচিত হয়েছে জনৈক মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লেখা একটি চিরকুট।
এতে তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানি না আমার এই চিরকুট আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না? আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, আমাদের দেশে যতগুলো ধর্ষণ ও খুন হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। বিশেষ করে ধর্ষণ। আমাদের স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছরে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বিচার দেখতে পারছি আমার মনে হয় না। আমার মনে হয়, সাধারণ জনগণের বিচারের প্রতি কোনো আস্থা নাই। আমাদের ছোট শিশু রামিসার বিচার কবে কার্যকর হবে? ৩ মাস, ১ বছর, ৫ বছর না ১০ বছর বলা খুব কঠিন। রামিসা, আছিয়া, হাদী, পাথর দিয়ে মারার বিচার চাই।’
চিরকুটে আরও লেখা রয়েছে, ‘বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে জড়িত যারা, আমার মনে হয় মাদক ব্যবসা যারা করে তাদের হাত অনেক বড়। না হয় থানা ম্যানেজ করে চলে। গ্রামের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ মাদক আসক্ত, শিশু তরুণ কিশোর। লাভ ইউ বাংলাদেশ।’ চিঠির অপর পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
আরেক চিঠিতে সিলেটের দরগা মহল্লার এক বাসিন্দা নিজেকে ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুলাভাই সম্বোধন করে তার কাছে কয়েকটি অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার সাহেবকে যেকোনো উপায়ে পুনরায় সিলেটে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তিনি হাদী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ছাড়া আল্লামা মামুনুল হককে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলছেন, যদি কোনো সংসদীয় আসন শূন্য থাকে, তবে সেখানে তাকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসের আসনেও তাকে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, আল্লামা মামুনুল হক বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার পরিচয় দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের সময় তার খাটিয়া বহনে অংশ নেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। এ বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, তার এই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।
এক অদ্ভুত ও রহস্যময় চিরকুটও পাওয়া গেছে দানবাক্সে। গোলাপি রঙের কাগজে হাতে আঁকা নকশায় চিরকুটটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও তান্ত্রিক প্রতীক এঁকে ‘মন্ত্রী মিনিস্টার’ লেখা রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
কাগজটির ওপরের অংশে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘গাড়ি বাড়ি সম্পদ নাই’। ঠিক মাঝখানে একটি বড় তারকা চিহ্নের ভেতরে লেখা রয়েছে ‘মন্ত্রী মিনিস্টার’। আর তার ঠিক নিচেই লেখা রয়েছে ‘আদি ধর্ম’।
এ ছাড়াও কাগজের চারপাশ জুড়ে স্বস্তিকা চিহ্ন, ওম, ক্রুশ, চাঁদ-তারা এবং জ্যামিতিক বিভিন্ন গোলক ও ত্রিকোণ আকৃতির নকশা আঁকা রয়েছে।
আবু জলিল হাবিব নামে একজনের লেখা চিরকুটের শিরোনাম ‘খোকন বাটপার’। চিরকুটে লেখা হয়েছে- ‘সে মাজারের গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ বেচাকেনা করে। মাজারের খাদেমের অর্ধেকের বেশি তার ইশারায় চলে। খোকনের কারণে পূর্বের অনেক কর্মরত কর্মচারী চাকরিহারা। তাদের মধ্যে কিছু লোক সবজি বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন। আমি চাই তার সঠিক বিচার হোক'।
চিরকুটের শেষ অংশে লেখা- 'সারওয়ার আলম ফিরে আসুক সিলেটে'। আরেক চিঠিতে উঠে এসেছে এক দম্পতির পারিবারিক প্রেম ও জীবনযুদ্ধের গল্প।
‘আমিনুল + মুন্নি’ নামের এই দম্পতির হাতে লেখা চিঠিতে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে লেখা হয়েছে তাদের মধ্যকার মিল-মহব্বত বাড়িয়ে দিতে এবং সব ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে।
চিঠিতে স্বামী লিখেছেন, মুন্নি আমার বউ। তাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি। মুন্নি + আমিনুলের সম্পর্ক হাজার বছর ঠিক রাখার তৌফিক দাও।
ভালোবাসার এই আকুতির পাশাপাশি চিঠিতে তারা সংসার জীবনে ‘আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার’ এবং ‘শত্রুদের হাত থেকে বাঁচার’ জন্য মাজারের ডেকে এই আরজিটি ফেলে যান।





