সোনাইমুড়ীতে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক সেলিম মিয়া। তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক যুগান্তরের সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় সোহেল (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চাঁদপুর এলাকায় মহাসড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাগরিবের আগে সোলেমান (৪০) ও সোহেলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় ফজলে রাব্বি (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে চোর আখ্যা দিয়ে ইট, লোহার রড ও কাঠের বস্তু দিয়ে মারধর করা হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ওই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাটি দেখতে পান সাংবাদিক সেলিম মিয়া। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি এগিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সোলেমান ও সোহেলসহ ১৪-১৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, কিরিচ, চায়নিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে।
এতে সেলিম মিয়ার মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মো. শহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক বিপদের মুখে পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সমাজের অনিয়ম, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও বলেছেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি সাংবাদিক সেলিম মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানালেন তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক সেলিম মিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন সাংবাদিকদের জানালেন, সাংবাদিক সেলিম মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় দুই নম্বর আসামি সোহেলকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।




