ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৯৬ কিলোমিটার যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট— সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার প্রায় ৯৬ কিলোমিটার অংশজুড়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং টানা বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী হাজার হাজার যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কুমিল্লা থেকে ঢাকা যেতে যেখানে সাধারণত প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে শুক্রবার সময় লেগেছে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা।
স্থানীয়রা জানান, ময়নামতির আমতলী এলাকায় সংস্কারকাজ চলায় যানজট মিয়াবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এ সময় মহাসড়কের উভয় লেনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এছাড়া নিমসার, কাবিলা, মাধাইয়া, ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর ও দাউদকান্দি এলাকায় যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করে। অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় যানবাহন থেমেও থাকতে দেখা যায়। বেলা গড়িয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
কুমিল্লা থেকে মাইক্রোবাসে ঢাকাগামী ব্যবসায়ী সাইফুল সুমন বলেছেন, ‘সকাল ৭টার দিকে মহাসড়কের আলেখারচর বিশ্বরোডে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। এরপর বিভিন্ন এলাকায় যানজটে পড়েছি। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা পৌঁছেছি। পুরোটা রাস্তায় গাড়ি থেমে থেমে ধীরগতিতে চলেছে।’
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, সংস্কারকাজের কারণে সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা থেকে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো এক জরুরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কের আমতলী এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকামুখী লেনে যানবাহন থেমে থেমে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ঢাকামুখী লেনে যানজট তীব্র হওয়ায় অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামমুখী লেনেও। এতে মহাসড়কের উভয় পথেই যানজট ছড়িয়ে পড়ছে। যানজট নিরসন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের দুটি মোবাইল টিমসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমতলী অংশের বেহাল অবস্থা ও খানাখন্দ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিনই ওই স্থানে সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘বৃষ্টির কারণে জরুরি সংস্কারকাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। অচিরেই সংস্কারকাজ শেষ হবে। তখন যানজট অনেকটাই কমে যাবে।’
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান, গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।





