ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ গ্রামীণ সড়ক প্রশস্তকরণ শুরু, ব্যয় ১৪০ কোটি

ঠাকুরগাঁওয়ে পাকা সড়ক— সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনায় প্রথম ধাপে জেলার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বড় উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি একাধিক উন্নয়ন সভায় বলেছেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না।’ তিনি জানান, জেলায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর এনএইচডব্লিউ-খোচাবাড়ী জিসি হয়ে নারগুন ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেট-মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, রুহিয়া সিনেমা হল ১১ মাইল এনএইচডব্লিউ-দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, ঠাকুরগাঁও-আটোয়ারী আরঅ্যান্ডএইচ (রুহিয়া)-রামনাথহাট জিসি সড়ক, রামনাথ জিসি-লাহিড়ী জিসি সড়ক, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ-সাবদালহাট সড়ক, পল্লী বিদ্যুৎহাট-রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক, আধার দিঘিহাট-আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস (স্কুলহাট) হয়ে উদয়পুর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক, মিরডাঙ্গীহাট-যাদুরাণী জিসি সড়ক, হরিপুর হেডকোয়ার্টার-ধীরগঞ্জ জিসি সড়ক এবং পীরগঞ্জ-ফকিরগঞ্জহাট হয়ে হাজীপুর-সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রশস্ত করা হবে।
নারগুন ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল হান্নান বললেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে ট্রাক-ভ্যান চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়। রাস্তা প্রশস্ত হলে ধান, গম ও আলুসহ কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নিতে পারব। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমবে।’
গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. শাহিনুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। প্রশস্তকরণ শেষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন বাড়বে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেক কমে যাবে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, একসঙ্গে এতগুলো সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদের আশা, প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষিত ‘ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।





