এক যুগ পর যেনতেন সংস্কার

প্রায় এক যুগ পর শুরু হয়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া সড়কের সংস্কারকাজ। তবে শুরুতেই উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। সড়কের প্রস্থ কমিয়ে আনা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার অস্বীকার করেছেন এসব অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, শাহরাস্তি রেলস্টেশনসংলগ্ন সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২০১৪ সালের পর বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে গর্ত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করছে। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের দাবি, আগে সড়কটির প্রস্থ ছিল প্রায় ১০ ফুট। এখন সেটি নামিয়ে আনা হচ্ছে সাড়ে ৮ ফুটে। এ ছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে পুরনো ইট। কার্পেটিংয়ের জন্য যে পাথর আনা হয়েছে, সেটির মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে আমাদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্কারকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সড়কটির আগের প্রস্থ ছিল ২ দশমিক ৬৬ মিটার। বর্তমান প্রকল্পে এটি আরও প্রশস্ত করার প্রস্তাবনা রয়েছে। মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কাজটি।’
ঠিকাদার ওমর ফারুকের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হবে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ। এজন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।
অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন ঠিকাদার ওমর ফারুকও। ‘সরকারি শিডিউল ও নকশা অনুযায়ী করা হচ্ছে কাজটি’— বলেন তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামও সড়ক সরু করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, কাজ শুরুর সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এসেছিল কিছু অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রায় ২৫ দিন বন্ধ ছিল কাজ। ২৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সড়কের প্রস্থ কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের দুপাশের মাটি ক্ষয়ে বিভিন্ন স্থানে এটি তুলনামূলক প্রশস্ত দেখাচ্ছিল। ফলে অনেকের কাছে মনে হতে পারে সড়ক সরু করা হচ্ছে। বাস্তবে করা হচ্ছে না এমন কিছু।’




