আগামীর সময়

যশোর বোর্ডের পৌনে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের বিচার শুরু

যশোর বোর্ডের পৌনে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের বিচার শুরু

সংগৃহীত ছবি

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বহুল আলোচিত ৩৮টি চেক জালিয়াতি ও ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন।

একই সঙ্গে মামলার অন্যতম প্রধান সহযোগী ও পলাতক আসামি ঠিকাদার শেখ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বোর্ডের ফান্ড থেকে টাকা লোপাটের এই ‘সিস্টেমিক’ জালিয়াতি চলে আসছিল। সোনালী ব্যাংক বিআইএসই শাখায় পরিচালিত বোর্ডের একটি বিশেষ হিসাবের মাধ্যমে এই লেনদেন হতো।

মূলত ইস্যু করা ৩৮টি চেকে টাকার অঙ্ক কাটাকাটি ও ঘষামাজা করে বড় অঙ্কের অর্থ তোলা হতো। যেখানে মাত্র ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকা উত্তোলনের কথা ছিল, সেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা উত্তোলন করা হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, বোর্ডের বরখাস্ত হওয়া হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম একাই ১৬টি চেক গ্রহণ করেছিলেন। অবশিষ্ট ২২টি চেক শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের সহায়তায় বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ক্যাশ করা হয়। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা মূল টাকার অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন: আব্দুস সালাম (বরখাস্ত হিসাব সহকারী), শেখ শরিফুল ইসলাম (ঠিকাদার-পলাতক), আশরাফুল আলম, গাজী নূর ইসলাম, রূপালী খাতুন (প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেস), সহিদুল ইসলাম,রকিব মোস্তফা, আবুল কালাম আজাদ (সহকারী মূল্যায়ন কর্মকর্তা) জুলফিকার আলী (নিম্নমান সহকারী), মিজানুর রহমান (চেক ডেসপাসকারী), কবির হোসেন।

তবে এই মামলায় বোর্ডের তৎকালীন শীর্ষ দুই কর্মকর্তা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মোল্লা আমির হোসেন ও সচিব প্রফেসর এ এম এইচ আলী আর রেজাকে চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে।

    শেয়ার করুন: