রামেকে ওষুধ-সরঞ্জাম সরবরাহের দাবিতে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রামেকে ইন্টার্নদের সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টা এবং পরে প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তা রা।
পাঁচ দফা দাবিতে আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। দুপুরে হাসপাতালের ভেতরে চারু মামার ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ ঘোষণা দেন।
এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকল্প চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়ায় সেবা স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদাত মাহমুদ তপু বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী না থাকলে চিকিৎসকদের পক্ষে যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘রামেক হাসপাতাল ১ হাজার ৩০০ শয্যার হলেও প্রতিদিন এখানে ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত শয্যাসংখ্যার রোগীদের জন্যও সরকারি বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’
ডা. সাদাত মাহমুদ তপু বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি রোগীকেন্দ্রিক। রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা ও সরবরাহের ঘাটতির দায় চিকিৎসকদের ওপর পড়ছে। এতে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।’
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট চলছে। ক্যানুলা, সিরিঞ্জ ও স্যালাইনের মতো জরুরি সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে চিকিৎসা দিতে দেরি হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান জানান, চিকিৎসকেরা ব্যবস্থাপত্র দিলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রীর অভাবে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নার্সরা হাসপাতালের সরবরাহ থেকে ওষুধ দিতে না পারার কথা জানালে রোগী ও তাদের স্বজনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় চিকিৎসকদের।
তিনি বলেন, ‘গত দুই থেকে তিন মাস ধরে আমরা ন্যূনতম চিকিৎসাসামগ্রী পাচ্ছি না। ক্যানুলা, সিরিঞ্জ ও স্যালাইনের মতো জরুরি সামগ্রীও দিতে পারছি না। ২৮ দিনের কোনো নবজাতকের খিঁচুনি হলে জরুরি ওষুধ দিতে দেরি হওয়া তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অথচ ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। এতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে।’
মুশফিকুর রহমান আরও বলেন, তাদের কর্মসূচি বেতন বৃদ্ধি বা বিসিএসে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে নয়। রোগীদের মৌলিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত না হলে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টা এবং পরে প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু, হাসপাতালে আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রধান ফটকে অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, ‘কর্মবিরতির আগে হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু, আনসার বাড়ানো, প্রধান ফটকে অ্যাটেনডেন্ট রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। কিছু বিষয় মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।’
তিনি জানান, ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালুর বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জানানো হয়েছে। হাসপাতালে ১০০ জন আনসার সদস্য বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসামগ্রীর কিছু চালান পার্শ্ববর্তী দেশ ও চীন থেকে আসে। সেগুলো পৌঁছাতে প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে। এ সময়ের জন্য স্থানীয়ভাবে সরঞ্জাম সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডা. শেখ শামীম আহমেদ আরও বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে থাকলেও হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। তাদের পরিবর্তে সহকারী অধ্যাপকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’ এতে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কাজে যোগ না দিলে হাসপাতাল পরিচালক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’



