৬ হাজার শিক্ষার্থীর বই পড়ার উৎসব

ছবি: আগামীর সময়
চারপাশে বই, চোখেমুখে উচ্ছ্বাস আর হাতে পুরস্কার। সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জড়ো হয় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বই পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতেই চলছে অপেক্ষা।
এটি সাধারণ কোনো পুরস্কার বিতরণী সভা নয়। বই পড়ার অভ্যাসকে ঘিরেই এই উৎসব। যে বই এতদিন ছিল অবসরের সঙ্গী, সেই বই পড়ার স্বীকৃতি পেতেই আজ একসঙ্গে হাজির হাজারো শিক্ষার্থী।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম মহানগরের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী উৎসব।
পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বিন হাফেজ বলল, ‘আমি তিন বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ২০ থেকে ২৫টি বই পড়েছি। প্রথম বছর শুভেচ্ছা পুরস্কার পাওয়ার পর এবার আমি তৃতীয় স্থান অর্জন করে খুবই আনন্দিত।’
পাঠানটুলী খান সাহেব সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দীপিকা বড়ুয়া দিপা বলেছে, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে নজরুল, রবীন্দ্রনাথসহ বিভিন্ন লেখকের বই পড়েছি। ভবিষ্যতেও আরও বই পড়ে পুরস্কার পেতে চাই।’
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মহানগরের ১০১টি স্কুলের ৫ হাজার ৮৯৫ শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯৪টি স্কুলের ৫ হাজার ৫৮৭ শিক্ষার্থী সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার পায়। আরও সাতটি স্কুলের ৩০৮ শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকদের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৬১৬ জন ‘শুভেচ্ছা’, ১ হাজার ১৫০ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ১২৯ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ জন ছেলে এবং ৪ হাজার ১৪৩ জন মেয়ে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর অতিথিদের হাত থেকে পুরস্কার নেয় শিক্ষার্থীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শিক্ষার্থীদের বই পড়ার পাশাপাশি এর শিক্ষা ও মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বই মানুষের অতীত ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে এবং মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রায় ৪৮ বছর ধরে বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান, মনন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বইপড়া কর্মসূচি চলছে।
প্রতিবছর এতে অংশ নেয় প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় গত ২০ বছর ধরে দেশের পাঁচ মহানগরে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের পুরস্কার বিতরণী আয়োজন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন খান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি পারভীন মাহমুদ, ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী ও ডা. আবদুন নূর তুষার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, চট্টগ্রামের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, শিশু সাহিত্যিক অরুণ শীল, গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম রিজিওনাল হেড মো. মিনহাজ উল আলম এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক অধ্যাপক আলেক্স আলীম।







