‘গুপ্ত’ লেখার জেরে ফের শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, আহত ২৬

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের দেয়ালে লেখা ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্র শব্দ মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের। এ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টে চলে কথার লড়াই। ছাত্রদল ও শিবিরের সেই লড়াই এবার ফেসবুক ও ক্যাম্পাস ছাপিয়ে রাজপথে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন।
দুপক্ষের প্রথম মারামারি হয় আজ মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে। সেখানে উভয়পক্ষে আহত হন অন্তত আটজন। এর প্রতিবাদে ছাত্রশিবির বিকেল ৪টায় নগরীর নিউ মার্কেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। সেই মিছিল থেকে শুরু হয় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়সহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয় আশপাশের এলাকা।
সংঘর্ষে কিছু তরুণের হাতে দেখা যায় ধারালো অস্ত্র। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল যান চলাচলও।
বিকেলে ফের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় নিউ মার্কেট মোড়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে। জানান, নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।
তিনি বলেছেন, ‘একপক্ষ নিউ মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে সিটি কলেজের দিকে গেলে অন্যপক্ষের মুখোমুখি হয়। তখন ঘটেছে ঘটনাটা। উভয়পক্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আহতদের হাসপাতালে নিতে বলেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত।’
‘দুপক্ষের নেতাদের বলেছি, আপনারা নিজেরাই কথা বলে বিরোধটা মিটিয়ে ফেলেন। এটা নিয়ে আর কোনো ঘটনা যেন না হয়’— যোগ করেন হোসাইন মোহাম্মদ কবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিউ মার্কেট মোড় থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সিটি কলেজের দিকে যেতে থাকেন। কলেজের সামনে আগে থেকেই ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শিবিরের মিছিল আইসফ্যাক্টরি রোডের মোড়ে পৌঁছলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
সিটি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এইচ এম মিশকাত বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম কলেজের দিকে। সেখানে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। ছাত্রদল বহিরাগতদের জড়ো করে অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে আমাদের ওপর। আমাদের একজনকে কুপিয়ে তার পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। আহত হয়েছেন মোট ১৫ জনের মতো।’
৯ জনকে নগরীর পাঁচলাইশে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে এবং ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে—জানান শিবির নেতা মিশকাত।
পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টির জন্যই ছাত্রশিবির কলেজের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। অভিযোগ, নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিনের।
তার ভাষ্য, ‘নিউ মার্কেট মোড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে কী কারণে তারা কলেজে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করল? সকালে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটার সমাধান করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ স্যার। বিকেলে আবার শিবির এ ঘটনা ঘটাল, এটা কি উসকানি নয়?’
শিবিরের হামলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনিসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তুহিন।



