দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়: ডা. শাহাদাত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাঁশখালী উপজেলার ১০৪ জন স্বেচ্ছাসেবককে তিন দিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এবার এক দিনেই ৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ইপসার স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় কাজ করেছে। মানুষকে সাহায্য করেছে, সর্তক করেছে। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের চোখে তাদের কাজ দেখেছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মীনাক্ষী বর্মন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আল আমিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল সারোয়ার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপসার প্রধান নির্বাহী ডা. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বললেন, বাঁশখালী ও ফিরোজশাহ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, তা প্রশংসনীয়। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। আমরাই রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা ফেলি, যা নালা-নর্দমা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবকরাই আগে এগিয়ে আসে.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আল আমিন বললেন, পাহাড়ি এলাকার মানুষ দুর্যোগের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাঁদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা অত্যন্ত জরুরি। ইপসা এ বিষয়ে কাজ করছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের বড় দুটি সমস্যা জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস। উভয় দুর্যোগেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। কৃষিক্ষেত্রেও আগাম সতর্কবার্তার প্রয়োজন রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মীনাক্ষী বর্মন বললেন, শিশুদের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংরক্ষণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ও একটি ডেটাবেইস তৈরির কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ইপসার সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক নাসিম বানু শিমুলী, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাবেদ তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য ও উপস্থাপনা প্রর্দশন করেন উম্মে হুমাইয়া সায়কা। বাঁশখালী ও ফিরোজশাহ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি ডেটাবেইস তৈরির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সংগঠিতভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এ পর্যন্ত দেশ ব্যাপী এ কার্যক্রমের আওতায় ১৫ ইপসা ৩৬২ জন শিশুর কাছে পৌঁছেছে ইপসা। ইপসা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাঁশখালী উপজেলায় অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগপ্রবণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।



