খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: পানিসম্পদমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণের মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) দেওয়া হবে। এ জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও চসিকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
আজ বুধবার চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এসব কথা বলেছেন।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য এরশাদ উল্ল্যাহ, সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলমসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী বলেছেন, `২০১৬ সালে শুরু হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে শুরু থেকেই সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করা প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যৌথভাবে কাজ করলেও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কীভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হবে এবং পানির প্রবাহ ঠিক রাখা হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ছোট নালার সঙ্গে বড় খালের সংযোগ ঠিক না থাকলে পানি নদীতে যেতে পারে না। সমন্বিত উদ্যোগের অভাবেই বর্তমানে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে।'
খাল দখল প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, `কাজ শেষ হতে না হতেই খালের পাশে দখল ও দোকানপাট নির্মাণ শুরু হয়ে যায়। তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কারও না থাকলে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই পাউবো ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে চলমান কাজ শেষ করে একটি এমওইউর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব চসিকের কাছে হস্তান্তর করবে।'
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘জনস্বার্থে এই দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেওয়া না হলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং জন-অসন্তোষ তৈরি হবে। চসিক মেয়রের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।'
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, `জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেই। তবে প্রয়োজন হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
চসিকের সরঞ্জাম কেনার জন্য একনেকে থাকা একটি প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, `এটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব আকারে একনেকে পাস হওয়ার পর এর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।'



