চবিতে ভবন নির্মাণে পাহাড় কাটার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরিবহন দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় কেটে সমতল করার অভিযোগ উঠেছে। আনুমানিক ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু ওই পাহাড় কাটার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ, এ কাজের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পাহাড় কাটার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজা হক বললেন, 'এই ক্যাম্পাসে পাহাড় আর গাছের যেন কোনো মা-বাবা নেই, কারণ পাহাড়-গাছ কাটতে কোনো অনুমতি দরকার হয় না। যে যেভাবে চায়, সেভাবেই কাটতে পারে।'
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে জাতীয় স্বার্থে বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদন নিয়ে পাহাড় কাটার সুযোগ আছে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমাদের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে পাহাড় কাটার বিষয় উল্লেখ ছিল না। পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেছেন, ‘তিনি এ বিষয়ে অবগত নন।’
চলতি বছরের ১ এপ্রিল পরিবহন দপ্তরের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট এলাকায় ভবনের একটি অংশ নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে এই ধাপের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমানের অভিযোগ, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।




