সংকট সামাল দিতে তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার

ছবিঃ আগামীর সময়
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ। বিপাকে পড়ে স্পট মার্কেট থেকে তিনগুণ বেশি দামে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কিনে দেশে জ্বালানি সংকট সামাল দিতে চাইছে সরকার।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী ৮ মে পর্যন্ত চুক্তিতে এলএনজি কেনা যাবে না। কারণ চুক্তিতে এলএনজি বিক্রি করা কাতার ও ওমান মে মাস পর্যন্ত জারি করেছে ‘ফোর্স মেজর’ (অনিবার্য বাধা)। যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাড়তে পারে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। ফলে স্পট মার্কেটের দরেই জ্বালানি কেনা ছাড়া উপায় নেই।’
গত মাসে সিঙ্গাপুরভিত্তিক গুনভর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে যে স্পট এলএনজি কার্গো কেনা হয়েছিল তার ইউনিটপ্রতি দর ছিল ২৮.২৮ মার্কিন ডলার (প্রতি এমএমবিটিইউ), যা চুক্তিতে কেনা এলএনজির দরের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। কাতার ও ওমান থেকে চুক্তিতে কেনা এলএনজির দর ছিল ইউনিটপ্রতি ৮ থেকে ১২ মার্কিন ডলার।
তিনগুণ চড়া দামে এলএনজি কিনে সংকট সামাল দিতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা আছে বাজেট। আর শুধু এপ্রিলেই ভর্তুকি দিতে হবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। ফলে বছর শেষে বিপুল ভর্তুকি পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।
বেশি দামে এলএনজি কেনার বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মার্চে স্পট মার্কেটে এলএনজির বেশি দর থাকায় কিনতে হয়েছে বেশিতে। অবশ্য এপ্রিলে কিনতে পারছি কিছুটা কমে।’
‘এপ্রিলে আমরা ৯টি কার্গোর সবগুলোই কিনব স্পট মার্কেট থেকে। আর মে মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনার প্রস্তুতি আছে,’ যোগ করেছেন তিনি।



