জাপা নেতার বাড়িতে নাহিদ-হাসনাত
এনসিপির দাবি আমন্ত্রণ ছিল রায়হানুলের, ভাই বলছেন ‘আলাদা প্লট নেই’

সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে নৈশভোজ ও রাতযাপনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির ভাষ্য, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে নয়, তার ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর আমন্ত্রণে তার ‘প্লটে’ ছিলেন।
গত রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার জাপা নেতার বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করল এনসিপির মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপকমিটি।
রবিবার এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। রাতে নাহিদ-হাসনাতসহ অন্তত ১০ জন নেতা বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামে ‘খান বাহাদুর বাড়িতে’ অবস্থান করেন।
প্রয়াত খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরীর ছয় ছেলের একজন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বিএনপি থেকে এক দফা ও জাতীয় পার্টি থেকে দুই দফাসহ মোট তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র।
এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘খান বাহাদুর বাড়িটি’ যৌথভাবে ছয় ভাইয়ের মালিকানাধীন। তবে এনসিপি নেতারা জাপা নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর ভাই রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর প্লটে অবস্থান করেছিলেন। তার বাসায় নৈশভোজ ও রাতযাপন করেন। তাদের সঙ্গে মাহমুদুলের কোনো সম্পর্ক নেই।’
রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘কোল ফ্রি ওয়ার্ল্ড’র নির্বাহী সম্পাদক ও জলবায়ু কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তার আমন্ত্রণে ওই বাড়িতে এনসিপি নেতারা গিয়েছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নাহিদ ইসলামের একটি বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘আমরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে জলবায়ু কর্মী রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর আমন্ত্রণে তার বাসায় যাই। সেখানে জাপা নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে আমাদের কোনো দেখা-সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সফরকে ভিন্নভাবে প্রচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আগামীর সময়ে প্রকাশিত সংবাদে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সরোয়ার তুষার দাবি করেছিলেন, মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর আমন্ত্রণে এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় নেতাদের দাবি, সেটা যে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি তারা জানতেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৈলছড়ি গ্রামের খান বাহাদুর বাড়িটি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থানের পর তার বাড়ি হিসেবেই বেশি পরিচিত।
মাহমুদুলের বড় ভাই আহমদুল ইসলাম চৌধুরী আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমাদের বাড়ি প্রায় ১০০ বছর আগে উজির বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪০- এর দশকে আমার আব্বা খান বাহাদুর উপাধি পান। তখন এটা খান বাহাদুর বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখনও প্রবীণ লোকজন খান বাহাদুর বাড়ি নামেই চিনেন। সবার তো আর ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেই। এজন্য আজকাল অনেকে মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি হিসেবেও বলেন।’
‘খান বাহাদুর বাড়িতে’ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর আলাদা কোনো ‘প্লট’ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমাদের যৌথ ফ্যামিলি। একটাই বাড়ি। অনেক বড় বাড়ি। আমরা শহরে আলাদা থাকি। গ্রামে গেলে একসাথে। আলাদা কিছু নেই।’
এনসিপি নেতারা রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানালেন আহমদুল ইসলাম চৌধুরী। বললেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় থাকে। তার বয়স এখন ৭০ বছর। মাঝে মাঝে আসা-যাওয়া করে। এখন সেখানে আছে। সে জাসদ ছাত্রলীগ করত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা ছিল। পরে জাসদ করত। কোনোভাবে তার সঙ্গে হয়তো এনসিপি নেতাদের যোগাযোগ হয়েছে।’
আগামীর সময়ের সঙ্গে কথোপকথনে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, তার ছোট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এনসিপি নেতারা তাদের বাড়িতে যান বলে তিনি শুনেছেন।
‘খান বাহাদুর বাড়িতে নৈশভোজ ও রাতযাপনের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের সমঝোতা বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে এনসিপি।






