বৃষ্টি-বন্যার প্রভাবে কাঁচাবাজারে আগুন

ছবি: আগামীর সময়
সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াসহ উত্তর চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা এবং বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারেও। বন্যা ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে সবজি ও সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমেছে। এতে দাম বেড়েছে বেশির ভাগ পণ্যের। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে সবজির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজার ও চকবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টমেটোর দাম। কয়েকদিন আগেও টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।
বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি খেত তলিয়ে গেছে। এতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজার ও চকবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টমেটোর দাম। আগে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হতো ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। এখন একই টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া দুই দিন আগের ৬০ টাকার বেগুন এখন ঠেকেছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কাকরোল ও ঝিঙের দামও কেজিতে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বর্তমানে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে করলা ও বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ও কচুর ফুল ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস ৩০ টাকার লাউ এখন ৬০ টাকায় ঠেকেছে। কম দামে বিক্রি হচ্ছে শুধু আলু ও পেঁপে। আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা এবং পেঁপে ৫০ টাকা।
সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলায় সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল। যার ফলে বাজারে সামুদ্রিক মাছের দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেরা ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। পাশাপাশি বন্যার কারণে বাজারগুলোতে নদীর মাছের সরবরাহও কমে গেছে। তবে ইলিশের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ (১ থেকে দেড় কেজি ওজনের) ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের হিমায়িত ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ কেজির কম ওজনের ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে প্রতি কেজি লাল কোরাল ৯০০ টাকা, সাগরের বড় কোরাল ১৬০০ টাকা, রুপচাঁদা আকারভেদে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং তাইল্ল্যা মাছ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজি ও সামুদ্রিক মাছের বাজারে দাম বাড়তি থাকলেও কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে পুকুরের মাছে। চকরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রজেক্ট ও পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চাষ করা মাছ সব হারিয়ে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। লোকসান এড়াতে প্রজেক্টের মালিকরা তড়িঘড়ি করে মাছ ধরে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন।
এ ছাড়া জেলার প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে বন্যায়। এর প্রভাবও পড়েছে বাজারে। এছাড়া বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে পথঘাটে চলে আসায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করছে। পুকুরের মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চাষের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৫০ টাকা এবং কাতল ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই কারণে চকরিয়া থেকে আসা বিভিন্ন মাছের দামও কিছুটা কমতির দিকে। বিভিন্ন সাইজের বাইলা মাছ ১০০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং দাঁতিনা কোরাল ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পূর্বে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বাটা মাছ এখন ১৪০০ টাকায় এবং ১৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া বড় সাইজের বাগদা চিংড়ি বর্তমানে ১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার করতে এসেছেন মিন্টু। তিনি বললেন, ‘একদিকে বন্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে এসে খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুর্যোগের অজুহাতে যেন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনের মনিটরিং থাকা প্রয়োজন।’




