জাতীয় পর্যায়ে অভিনয়ে প্রথম বোয়ালখালীর শিশু মনীশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্ষুধার্ত শিশুটি এধার-ওধার ঘুরছে। একটু খাবারের আশায়। তার কেউ নেই কিছু নেই। চারদিকে অবহেলা অবজ্ঞা। খিদের জ্বালা মেটাতে নিরূপায় শিশুটি একসময় ডাস্টবিনে খাবার খুঁজতে থাকে। একটা আধ পচা রুটি পেয়ে তা মুখে তুলে নেয়। পচা দুর্গন্ধে বমি আসে। তবু নিরূপায়। এবার তার রুটিতে ভাগ বসাতে আসে একটি পাখি। পচা রুটিটার ভাগ পাখিকে দিলে তার অসুখ হবে না তো, এমন ভাবনা পেয়ে বসে শিশুটিকে। এভাবে পাখিটার সঙ্গে একসময় তার ভাব জমে যায়। নিঃসঙ্গ দুজন দুজনের দুঃখের গল্প বিনিময় করে।
এমন একটি কাহিনী অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মনীশ ক্ষেত্র চৌধুরী। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬ এ একক অভিনয়ে সে অংশ নেয়।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রথম হওয়া প্রতিযোগিরা এতে অংশ নেয়।
ক্লাসে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করে মনীশ। অভিনয়ে প্রথম হলেও ভবিষ্যতে অভিনেতা হবে এমন স্বপ্ন এখনই দেখে না সে। ছবি আঁকা, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, গীতা শিক্ষাসহ নানা বিষয় চর্চা করে সে।
মনীশ বোয়ালখালীর শাকপুরা সওদাগর বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এর আগে চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে অভিনয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সে। তার মা শিমলা সেনগুপ্তা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবা মনোজ চৌধুরী ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি একই উপজেলার পশ্চিম খিতাচর গ্রামে।
দুই বছর ধরে মনীশ স্কুল পর্যায়ে অভিনয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে মনীশ জেলাপর্যায়ে আসে। সেখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সাত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মনীশ প্রথম হয়। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের হাত থেকে পদক গ্রহণ করে।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ কয়েকজন। তারা মনীশের অভিনয়ের প্রশংসা করেন। মনিশ বলল, ‘আমার অভিনয় খুব ভালো হয়েছে বলে প্রশংসা করেছেন বিচারকরা। অভিনয় করতে ভালো লাগে। মায়ের কাছ থেকে অভিনয় শিখেছি।’
মনীশের মা শিমলা সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে জড়িত। তিনি গান করেন। শিমলা বললেন, ‘ছেলের সবকিছুতেই আগ্রহ রয়েছে। সে হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে। একটু গান করে। আবৃত্তি করে। সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোতে সবসময় অংশ নিয়ে থাকে। আনন্দের সঙ্গে পড়ে সে। আমি চাই সে ভালো মানুষ হোক।’




