মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে কোমরসমান পানি

ছবি: আগামীর সময়
দুই ঘণ্টায় ঝরেছে মাত্র ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। এতেই চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাসহ বেশ কটি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি জমেছে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টার আগেই বৃষ্টি থেমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী ও যাত্রীরা। অনেকে রিকশা ও ভ্যানে করে এই পথ পাড়ি দিয়েছেন।
অনেকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর উপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন। ক্ষুব্ধ পথচারীরা ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘ছবি তুলে কি হবে? মন্ত্রীকে বলুন, পানির ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি।’ এর আগে গত সপ্তাহে তিন দফা জলাবদ্ধতা হয়েছে নগরীতে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল নগরীর বাসিন্দাদের। তখন মন্ত্রী এসে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে ‘ভুয়া খবর’ বলেছিলেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমবাগান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সকাল ছয়টার আগ পর্যন্ত ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সরেজমিন পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা ছয়টায় কোমর সমান পানিতে ডুবে যায় পুরো সড়ক। এই সড়কে দুইটি হাসপাতাল, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি বহুতল সরকারি অফিসার্স অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বহুতল ভবন রয়েছে।
সরকারি অফিসার্স অ্যাপার্টমেন্ট চামেলির তত্ত্বাবধায়ক মো. সেলিম বললেন, ‘খালে বাঁধ দিয়ে কাজ করার কারণে সব পানি এসে জমছে এই সড়কে। বৃষ্টি না থাকলেও অনেক সময় পানি জমে থাকে।’
বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, পানি মানুষের কোমর ছুঁয়েছে। এসময় অনেকে উঁচু আইল্যান্ড দিয়ে হেঁটে রাস্তা পার হন। অনেকে রিকশায় করে যাতায়াত করেন।
একটি প্রাইভেট কার ডুবে অচল হয়ে যায়। সেটিকে কয়েকজন ঠেলে শুকনো এলাকায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এসময় এক পথচারীর কাছ থেকে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিরক্তবোধ করেন। বললেন, ‘ছবি তুলে কি হবে? মন্ত্রীকে বলেন এগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছবি।’
বৃষ্টিতে কাতালগঞ্জ আবাসিক ও পাঠানটুলী এলাকায়ও পানি উঠেছে। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা মাসুদ ফরহান প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সন্ধ্যা ছয়টায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘খোদার কসম এটি ঠিক এই মুহূর্তের চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার ছবি। এটি ২০২৩ কিংবা ২০২৪ সালের ছবি নয়।’
পাঠানটুলীর গায়েবি মসজিদ এলাকার বার্মা ফার্নিচারের মালিক মো. দেলোয়ার বলেছেন, ‘গোড়ালি পর্যন্ত পানি উঠেছে। বৃষ্টি থামার পর নেমে যাচ্ছে।’





