গ্রামের মানুষ ভালো থাকুক: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

সিলেট সদরের কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল ১৯৭৭ সালে খনন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এবার সেটি পুনঃখননে এসেছেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে গ্রামবাসীর মঙ্গল কামনা করলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘গ্রামের মানুষ ভালো থাকুক সেটাই আমাদের লক্ষ্য... এই সরকারের একটাই লক্ষ্য, দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা, তাদের সমস্যার সমাধান করা।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত এক জনসভায় এসব বলেছেন তিনি। স্মরণ করেছেন প্রয়াত বাবাকে।
‘১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বাসিয়া খাল খনন করেছিলেন। খালটা এখন বন্ধ... এই প্রকল্প (পুনঃখনন) সম্পন্ন হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি এবং আরও দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। একইসঙ্গে এই এলাকায় ৭ হাজার টন বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে।’
বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গ্রামে বাস করে- জানালেন তিনি। ‘গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।’
‘বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করব। আমরা শুরু করেছি। সারা বাংলাদেশে এরইমধ্যে প্রায় ৬০টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ এই বাসিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাব। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলদ গাছও লাগাব’- যোগ করেন তারেক রহমান।
বক্তব্যে উঠে আসে বিএনপির আরও কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা।
‘নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিব। আমরা তা শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। এই কার্ড দিয়ে তারা যেমন সার কীটনাশক বীজ পাবেন, তেমনি কৃষি ঋণও পাবেন। ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি।’
এসময় মঞ্চে থাকা শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরকে দেখিয়ে জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আপনাদের ছেলে মুক্তাদীর সরকারের শিল্পমন্ত্রী। তাকে বলেছি, বন্ধ হওয়া শিল্প কারখানার সমস্যা সমাধান করে সেগুলো সচল করতে। আরও নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা শিল্প ক্ষেত্রেও জোর দিচ্ছি। এতে বেকারত্ব হ্রাস হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শাম্মী আখতার।
অনুষ্ঠানে ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীরা।



