শাটডাউনের ১৪তম দিন
চুয়েটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে দুই সপ্তাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
প্রতিদিন মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির পাশাপাশি আজ সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা।
সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা মানববন্ধন করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বললেন, ‘আমরা অত্যন্ত অহিংসভাবে আন্দোলন করছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক। শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবন যেন বিলম্বিত না হয়।’
এদিকে, সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা চুয়েটের শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ জানালেন, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসে যেখানে আমাদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও অবস্থান কর্মসূচিতে থাকতে হচ্ছে। দাবি পূরণের জন্য আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।’
টানা ১৪ দিন শাটডাউন চলায় চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যুক্ত হন।




