‘পণ্য শুল্কায়নেই ৮ দিন সময় লাগছে’ অভিযোগ চট্টগ্রাম চেম্বারের

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য শুল্কায়ন ও খালাসে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। এক্ষেত্রে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও সদিচ্ছার অভাবকেই তিনি প্রধানত দায়ী করেছেন। এতে আমদানিকারকরা বিশাল জরিমানা গুনছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে রবিবার এসব লিখিত অভিযোগ করে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে সমাধান চেয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি।
চিঠিতে ব্যবসা সহজ করতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর স্পষ্ট নির্দেশনা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্থ মন্ত্রণালয়ের একট প্রতিষ্ঠান। বাজেট ঘোষণা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশা এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার বন্দর থেকে পণ্য খালাস, শুল্কায়ন দ্রুত করে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাইছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই রাজস্ব বোর্ডের অধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা করছে। কন্টেইনার স্ক্যানিং করার পরেও 'গোপন সংবাদের' দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন) করা হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার অজুহাতে টেস্টের জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং চলমান 'বিল অব ল্যাডিং' থাকা সত্ত্বেও শুধু সিগনেটরির স্বাক্ষর যাচাইয়ের নামে দিনের পর দিন শুল্কায়ন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এমনকি কন্টেইনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং এবং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্যও বিএসটিআই টেস্টের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এসব কারণে পণ্য শুল্কায়নে ৭ থেকে ৮ দিন বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও ক্ষেত্রবিশেষে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও সদিচ্ছার অভাবে দ্রুত পণ্য শুল্কায়ন ও খালাস প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না-বলে তার অভিযোগ।
গত ঈদুল আজহার দিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে তার বাসভবনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় ব্যবসা পরিচালনা সহজ ও খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে ৪ দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।




