ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই বন্যার্তদের

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম পাহাড়ি ঢল ও বন্যার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। দুইদিন বৃষ্টি বন্ধ থাকায় ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলের চারদিকে এখন কেবলই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন।
বুধবারেও বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বসতঘরের উঠান জুড়ে থই থই করছে বন্যার পানি। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসছে। নেমেছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে। কারো ঘরে ধসে গেছে। কারো ঘরে আবার হাঁটু থেকে গোড়ালি সমান কাদা জমেছে।
বহু পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এলাকার অধিকাংশ মাটির ঘর ধসে পড়েছে। ঘর হারানো মানুষগুলোর দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের আশ্রয়ে। শুধু থাকার জায়গাই নয়, রান্না করার সুযোগ না থাকা, বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়ে দুর্গত এলাকার মানুষজন এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি। বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মো. সোলায়মান আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘ঘরের ভেতর থেকে পানি নামছে ঠিকই, কিন্তু উঠানে এখনো পানি আছে। রান্নাবান্না সব বন্ধ। সবচেয়ে বেশি কষ্ট খাওয়ার পানির। টিউবওয়েল সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’
পানি নেমে যাওয়ার পর স্পষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো ও অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র। কেবল বসতঘরই নয়, ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। ভেসে গেছে মাইলের পর মাইল সবজিখেত, ফসলি জমি, উপকূলের লবণের মাঠ এবং কোটি টাকার মাছের ঘের।
উপকূলীয় অঞ্চলের চাষি আমান উল্লাহ বলেছেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছের ঘের আর সবজি চাষ করেছিলাম। বন্যা আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিল। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠব, তা নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছি।’
দুর্গত এলাকার মানুষরা জানাচ্ছেন, জরুরি ভিত্তিতে তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পেলেও এখন তাদের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসন। এদিকে, আজ দুপুরে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেছেন, ‘উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি অতিসত্বর সমীক্ষা করতে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ঘের কতটা ক্ষতি হয়েছে। কত মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকা পেলে ঘর নির্মাণের জন্য মঞ্জুরি দেবো। কাউকে কাউকে ঢেউটিন দিয়ে সহযোগিতা করব।’
তিনি বলেছেন, ‘ত্রাণ বিতরণে কোনো রকম দুর্নীতি এবং স্বজন প্রীতি আমরা বরদাস্ত করবো না। বন্যা প্লাবিত মানুষের ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি নেই। যারাই দুর্গত তাদের ত্রাণ দিতে হবে। এ ধরনের অভিযোগ যদি আসে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাঁশখালীর মতো পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল থেকেও বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও ভেসে উঠছে ভাঙা রাস্তাঘাট আর ধসে পড়া ঘরবাড়ির কঙ্কাল।







