চট্টগ্রামে এই প্রথম বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া নেই তাদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতীয় সংসদে ঘোষিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সরকার ও বিরোধীদলের পাল্টাপাল্টি মিছিলের কর্মসূচি। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রীতি। এবার প্রথমবারের মতো সেই রীতিতে ব্যত্যয় ঘটেছে।
সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বাজেট নিয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি। উভয় দলের নেতারাই বলছেন, তারা ঘোষিত বাজেট পর্যবেক্ষণে সময় নিচ্ছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নব্বই দশকের শুরুতে দেশ সংসদীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে প্রবেশের পর থেকে বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি দল এবং প্রত্যাখান করে বিরোধী দলের মিছিল ‘অভ্যাসের কর্মসূচিতে’ পরিণত হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় মিছিল-সমাবেশ করতো। বাজেট ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যানার তৈরি করে ফেলা কিংবা সংসদে পেশ করার মধ্যেই মিছিল বের করে ফেলা নিয়ে হাস্যরসও কম হয়নি।
শুধুমাত্র এক-এগারোর জরুরি অবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকায় এর ব্যত্যয় ঘটেছিল।
রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের শহর হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ট্রেডবডি থেকেও বাজেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আসতো। সব মিলিয়ে বাজেটের বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আড্ডায়-আলোচনায় সরগরম থাকতো বন্দরনগরী।
তাড়াহুড়ো করে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চান না বলে জানালেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের চাহিদার উপযোগী একটি বাজেট পেশ করা হয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদার সকল বিষয়গুলোকে সরকার টাচ করেছে। শুধুমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবাখাতে উৎস কর কমানোর বিষয়টি আরেকটু বিবেচনা করা উচিৎ বলে মনে করি।’
পুরো বাজেট আরও পর্যবেক্ষণ করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ মতামত তুলে ধরা হবে বলে জানালেন তিনি।
বাজেট নিয়ে আপাতত কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানালেন মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালি, ‘আগে বাজেট ঘোষণার সময়ই মিছিল করা হতো। আমরাও করেছি। কিন্তু এখন বাজেট পুরোপুরি না দেখে শুধু শুধু চিল্লাফাল্লা করতে চাই না। আগে পর্যবেক্ষণ করি। তারপর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’




