জাহাজে দস্যুতা শুন্য চারমাস

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসা বাণিজ্যিক জাহাজে এখনেও দস্যুতার (পাইরেসি) ঘটনা ঘটেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পণ্যবাহি জাহাজ বাংলাদেশ জলসীমায় পৌঁছার পর চুরি-ডাকাতি-দস্যুতার কবলে পড়ে। ক্ষুন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের ভাবমূর্তি।
২০২৬ সালের প্রথম চারমাসে অন্তত দেড় হাজার দেশি-বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসেছিল। কোন জাহাজকেই এই খারাপ ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি। আর এই খবর মিলেছে বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা প্রতিরোধে কর্মরত আর্ন্তজাতিক সংগঠন রিক্যাপ রিপোর্টে।
২০২৫ সালে বঙ্গোপসাগরে পণ্য নিয়ে পৌঁছা বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত চারটি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল। সেদিক থেকে এখন দস্যুতা শুন্য থাকায় বেশ স্বস্তিতে আছে জাহাজ পরিচালনাকারী, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড। এখন স্বস্তি কতদিন অব্যাহত থাকে সেটি দেখার বিষয়। কারণ ২০২৫ সালে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল এপ্রিলের পর।
জাহাজে পাইরেসি ঠেকাতে চট্টগ্রাম বন্দর, নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড- তিনটি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে। তার মানে জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে দস্যুতা ঘটেনি নাকি ঘটাতে পারেনি। প্রশ্নটা করা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহকে। তার উত্তর 'সাগরে নজরদারিতে আগের চেয়ে কঠোর হয়েছি আর কৌশলে পরিবর্তন এনেছি। আর তিনটি বাহিনীর সমন্বিত অভিযান-নজরদারিতেই দস্যুতা ঘটানোর সুযোগ পায়নি।'
চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহির্নোঙরে এক বছরে সাড়ে চার হাজার দেশি-বিদেশি সমুদ্রগামি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। এর বেশিরভাগ জাহাজই বন্দর জেটিতে ভিড়ে। কিছু জাহাজ সাগর থেকেই পণ্য স্থানান্তর করেই ফেরত যায়। দস্যুদের প্রধান টার্গেট থাকে জাহাজে উঠে পণ্যচুরি। জাহাজের ক্যাপ্টেনরা বাধা দিলেই তারা হামলা করে। মুলত সোমালিয়ায় নাবিক জিম্মি করে যে টাইপের সশস্ত্র দস্যুতা ঘটে সেটি বাংলাদেশে হয় না।
ছোট টাইপের দস্যুতা হলেও সংখ্যা বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশকে চড়ামূল্য দিতে হয়েছিল একাধিকবার। নিজেদের জলসীমায় দস্যুতা বাড়লে তার মাশুল দিতে হয় বাংলাদেশকেই।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন বলছেন, চার মাসের অর্জন দিয়েই স্বস্তি পেলে চলবে না। বছরজুড়েই এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।
রিক্যাপ রিপোর্টে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এশিয়ায় মোট ১৬টি সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর বেশিরভাগই ছিল সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালীতে। বাংলাদেশ জলসীমা এই সময় পুরোপুরি নিরাপদ ছিল।
রিপোর্টে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১১টি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে গত এক দশকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১৩টি ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৫ সালে তা প্রায় ৬৯ শতাংশ কমে মাত্র ৪টিতে নেমে আসে। আর ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই সংখ্যা শুন্যে এসে দাঁড়িয়েছে।






