চট্টগ্রামে বাড়ছে কুকুর, সঙ্গে জলাতঙ্কও

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুকুর কিংবা অন্য প্রাণীর কামড়ের রোগীর সংখ্যা। গত পাঁচ বছরে রোগী দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকেও এসব রোগী আসছেন শহরমুখী। শহরের শুধু দুটি হাসপাতালে রয়েছে কুকুরে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসা। জলাতঙ্ক টিকা একমাত্র এখানেই মেলে। এ দুটি হাসপাতাল হলো— চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশার্স ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল।
এ দুই হাসপাতালে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক রোগের টিকা পাওয়া যায়। উপজেলা থেকেও এখানে রোগী আসেন। তাদের পর্যায়ক্রমে তিনটি জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কুকুরের কামড়ে চিকিৎসা না পেয়ে আক্রান্ত হলে জলাতঙ্ক হওয়ার শঙ্কা বেশি। আর জলাতঙ্ক মানে মৃত্যু অনিবার্য।
রাস্তার কুকুরের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হচ্ছে মানুষ। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা পোষা প্রাণী, রাস্তার কুকুর এবং প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬ হাজার কুকুরকে চলতি বছর টিকাদানের আওতায় আনা যায়নি। করপোরেশন এরই মধ্যে কুকুরের টিকা এবং টিকা দেওয়ার টিম চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে। তবে তার কোনো জবাব আসেনি। করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা আগামীর সময়কে বললেন, ‘৪১ ওয়ার্ডে প্রায় ১৬ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এক মাস আগে এই চিঠি দেওয়া হয়। তারা জনবলসহ টিকা পাঠালে আমরা কুকুরগুলো টিকার আওতায় আনব।’
শহরে কুকুরের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। চট্টগ্রামে গত বছর ১৫ হাজার ৩০০ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের বছর টিকার আওতায় আনা হয়েছিল ১৩ হাজার কুকুরকে। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৬ হাজার বলে করপোরেশন জানিয়েছে। এ ছাড়াও হয়তো কিছু কুকুর গণনার বাইরে থাকতে পারে।
ডা. ইমাম হোসেন রানা বললেন, ‘কুকুরকে প্রতি বছর টিকার আওতায় আনা দরকার। অন্তত ৭০ ভাগ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা গেলে একটা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। এখন আমরা তো কুকুর মেরেও ফেলতে পারব না।’
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কুকুরে কামড়ের টিকা দেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন বললেন, ‘রোগী এবং কুকুর দুই বেড়েছে। কুকুরগুলো যাবে কোথায়? এগুলো তো মেরে ফেলা যাবে না। কুকুরের কারণে রোগী বেড়েছে।’ জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক বা র্যাবিস টিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একরাম হোসেন।
২০২১-২২ সালে জেনারেল হাসপাতালে ১০ হাজার ৪৪৮ ডোজ জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হয়। পরের বছর তা বেড়ে ১৫ হাজার ৪৯৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ সালে জলাতঙ্ক টিকার ডোজ ব্যবহৃত হয় ২৪ হাজার ৭৯১ ডোজ। বিআইটিআইডি হাসপাতালে চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৭৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ছিল ২ হাজার ৫২৪ ডোজ। ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৫৭৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয় রোগীদের।
বিআইটিআইডি হাসপাতালে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কুকুরে কামড়ানো ১০৩ জন রোগীর জলাতঙ্ক হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর জলাতঙ্ক হওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, জলাতঙ্ক রোগীর মৃত্যু অনিবার্য। শতভাগ রোগী মারা যায়। এজন্য কুকুর কিংবা অন্য প্রাণীর মাধ্যমে কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে দ্রুততম সময়ে টিকা নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত স্থানটি ধুয়ে নিতে হবে।
বিআইটিআইডি হাসপাতালে পর্যাপ্ত র্যাবিস টিকা এবং ইমিউনোগ্লোবিং ইনজেকশন রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বললেন, ‘কুকুর কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব টিকা নিতে হবে। পরপর তিনটি ডোজ দিতে হয়। আক্রান্ত স্থানের টিস্যুর মাধ্যমে শরীরের নার্ভ সিস্টেম আস্তে আস্তে আক্রান্ত হয়। একপর্যায়ে মৃত্যু হয়।’



