শিক্ষামন্ত্রী
ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আসছে কেন্দ্র সচিবদের ফোন নম্বর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
আসন্ন এসএসসি ও অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসরোধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কেন্দ্র সচিবদের ফোন নম্বর ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ‘দুর্নীতির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে নেওয়া হবে সব ধরনের ব্যবস্থা। উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও মান নিশ্চিত করতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব’, যোগ করেন মন্ত্রী।
অতীতের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে একবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।’ এসময় তিনি সারাদেশে অভিন্ন বা একক প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।
এদিকে, নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। পরীক্ষা চলাকালীন নজরদারির জন্য পরিদর্শন দল বা ভিজিল্যান্স টিমের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৬টি।
পরীক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পরীক্ষার্থী গত বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ১০ হাজার। তবে শিক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
বোর্ডটিতে ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থী হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন। সে হিসেবে শিক্ষার্থী কমেছে মোট ১০ হাজার ৫ জন।
পরীক্ষার্থী কমার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা মোট তিনটি বিভাগেই কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি কমেছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে (প্রায় ৫ হাজার ৬০৮ জন)।
বোর্ডটিতে বরাবরের মতো এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। ছাত্র পরীক্ষার্থী ৫৬ হাজার ৩২৫ জন হলেও ছাত্রী রয়েছে ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ১৮ হাজার ১৮ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৯২ হাজার ২৯৬ জন, কক্সবাজারে ১৮ হাজার ৯১৪ জন, খাগড়াছড়িতে ৮ হাজার ৬৯ জন, রাঙামাটিতে ৭ হাজার ৪১৬ জন এবং বান্দরবানে অংশ নেবেন ৩ হাজার ৯৭৩ জন পরীক্ষার্থী।
এ বছর পরীক্ষার্থী কমলেও অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ১৬৪টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা একটি কমে করা হয়েছে ২১৮টি। সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।















