চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড: ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেল ৬০ হাজার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবারও ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৬০ হাজার ৭৭৪ জন পরীক্ষার্থী। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে দায়সারা পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতাকেই ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বোর্ডের বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ইংরেজিতে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ৯৯ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৫ হাজার ৬৭৪ জন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ইংরেজিতে ফেল করেছেন। অন্যদিকে, আইসিটিতে একই সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
ইংরেজি ও আইসিটিতে পাসের হার কম হলেও অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফল তুলনামূলক ভালো। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে ৮৬ দশমিক ০৬, রসায়নে ৮৮ দশমিক ৩৫, জীববিজ্ঞানে ৮৩ দশমিক ০৭, ভূগোলে ৯৪ দশমিক ৬০ এবং কৃষিশিক্ষায় ৯৫ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
আইসিটিতে এত শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেছেন, ‘অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যোগ্য শিক্ষকরা ভালো চাকরি পেলে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকসংকট লেগেই আছে।’
শিক্ষার্থীদের এই ফলের পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রিক এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শেখার চেয়ে পরীক্ষার জন্য পড়তেই বেশি আগ্রহী। শ্রেণিকক্ষে অনেক শিক্ষক দায়সারাভাবে পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে বিষয়বস্তু বোঝা ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, করোনা মহামারীর পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা বেড়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার ধরন পরিবর্তিত হলেও অনেক শিক্ষার্থী সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না।
সার্বিক ফলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের চিত্র নিম্নমুখী। এবার এই বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ এবং মেয়েদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২, ব্যবসায় শিক্ষায় ৫৪ দশমিক ১৪ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলে দেখা যায়, পার্বত্য জেলাগুলোর ফল সবচেয়ে খারাপ। খাগড়াছড়িতে পাসের হার মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ এবং কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।




