ফুটপাতে অবৈধ পার্কিং
ট্রাফিক পুলিশকে ভর্ৎসনা, চালককে কান ধরে ওঠবস করালেন চসিক মেয়র

ছবি: আগামীর সময়
ফুটপাত দখল করে অবৈধ পার্কিং এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। আজ মঙ্গলবার বিকালে নগরের জিইসি মোড় থেকে গোলপাহাড় মোড় পর্যন্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় ফুটপাতে গাড়ি রাখায় এক চালককে কান ধরে ওঠবস করান তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন মেয়র।
অভিযানে দেখা যায়, জিইসি মোড় ও আশপাশের এলাকার ফুটপাতগুলো মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দখলে। পথচারীদের হাঁটার স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। একটি দোকানের সামনের ফুটপাতে আড়াআড়িভাবে গাড়ি পার্ক করে রাখায় ক্ষুব্ধ হন মেয়র। গাড়ির চালককে পেয়ে তিনি নিজেই তাকে শাস্তি দেন। জরিমানার পাশাপাশি ওই চালককে সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
এসময় মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘টাকা না দিলে কান ধরে ওঠবস কর। ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য, গাড়ি রাখার জন্য নয়।’
অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকান মালিকদেরও দায়ী করেন চসিক মেয়র। সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা এখানে কী ডিউটি করছ? এখানে সব গাড়ি কীভাবে থাকে? আমি তো আগেই সতর্ক করেছি। এরপরও যদি ফুটপাতে গাড়ি দেখি, তাহলে তোমাদের চাকরি থাকবে না, মামলার ব্যবস্থা করব।’
এ ছাড়া যেসব বিপণিবিতান বা দোকানের সামনে পার্কিং করা ছিল, তাদের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের ডেকে সতর্ক করেন মেয়র। মার্কেট কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, নিজেদের দোকানের সামনে পার্কিং করতে দিলে জরিমানার পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। নিয়ম না মানলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ সময় বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার করে দেওয়ার এবং ফুটপাতে থাকা মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে রেকারিংয়ের মাধ্যমে থানায় পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।
মেয়রের উপস্থিতিতে এই অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার। জিইসি, গোলপাহাড় মোড় ও শিল্পকলা একাডেমি থেকে দামপাড়া পর্যন্ত ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ফুটপাত জনগণের হাঁটার জায়গা। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইভিনিং মার্কেট করার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু জনগণের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বা পার্কিং করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখার জন্য বারবার সতর্ক করার পরও কাজ না হওয়ায় আজ বাধ্য হয়ে আমাকে কঠোর হতে হয়েছে।’
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন মেয়র।
অভিযানকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম ও জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলামসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



