অতিথি সমাদর ঘরে, গাড়ির ঠাঁই সড়কে

সংগৃহীত ছবি
আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন অতিথিরা। ভবনের ভেতরে পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও ফটকে ঝোলে নোটিস— ‘অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখুন’। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখতে হচ্ছে তাদের। এতে সংকুচিত হচ্ছে চলাচলের পথ, ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও অন্য যানবাহনের চালকরা। এমন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক ভবনগুলোয় পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও তা সব সময় অতিথিদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। কোনো বাসিন্দা পার্কিং স্পেস কিনেছেন, কেউবা নিয়েছেন ভাড়া। তাই জায়গাটি নিজের গাড়ির জন্য সংরক্ষিত রাখতে চান তারা। আবার কোনো বাসিন্দার নিজস্ব গাড়ি না থাকলেও তার নামে বরাদ্দ থাকা পার্কিং স্পেস ভাড়া দেওয়া থাকছে অন্যের কাছে। আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনে পার্কিং স্পেস নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে বরাদ্দ থাকলেও ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতি ছাড়া সেখানে অন্যের গাড়ি রাখাও সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় জায়গা সাময়িকভাবে খালি পড়ে থাকলেও অতিথির গাড়ি রাখার সুযোগ মিলছে না। শেষ পর্যন্ত ভবনের সামনের সড়কই হয়ে উঠছে বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান।
নগরের আব্দুল্লাহ খান সড়কের জেদ্দা ইবনে আমিন ভবনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সবুজ বলেছেন, ‘ভবনের পার্কিংয়ে কোন গাড়ি রাখা যাবে, তা মালিক বা ব্যবস্থাপনা কমিটি ঠিক করে দেয়। অনেক সময় পার্কিংয়ের জায়গা খালি থাকলেও অতিথিদের গাড়ি রাখতে দেওয়া যায় না। ভবনের বাসিন্দাদের গাড়ি কখন ফিরে আসে, সেটিও মাথায় রাখতে হয়।’
একই কথা জানিয়েছেন কালা মিয়া মুন্সী লেনের খান টাওয়ারের প্রধান নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ বশির। তিনি বললেন, ‘অতিথিরা গাড়ি নিয়ে এলে তাদের বাইরে রাখতে বলি। এতে অনেকে অসন্তুষ্ট হন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে গাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই।’
পার্কিংয়ের জায়গাটি খালি থাকলেও অন্যের গাড়ি রাখতে দিতে চান না অনেক বাসিন্দা। তাদের যুক্তি, নিজের গাড়ি বাইরে থাকলেও যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘পার্কিংয়ের জায়গা আলাদাভাবে কিনতে বা ভাড়া নিতে হয়। আমি নিজের গাড়ির জন্য টাকা দিয়ে জায়গা নিয়েছি। গাড়ি বাইরে থাকলেও যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে। তখন অন্যের গাড়ি রাখা থাকলে নিজের গাড়ি রাখব কোথায়?’
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ইক্যুইটি এক্সেলিয়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত কারও বাসায় গাড়ি নিয়ে গেলে অনেক সময় ভবনের ভেতরে পার্কিং করতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে গাড়ি রাখতে হয়। এতে গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে যেমন দুশ্চিন্তা থাকে, তেমনি সড়কে গাড়ি রাখায় অন্যদের চলাচলেও সমস্যা হয়। সবকিছু জেনেও কিছু করার থাকে না।’
২০০৮ সালের চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, একাধিক পরিবারভিত্তিক আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ন্যূনতম একটি করে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের ভবনের জন্যও অন্তত একটি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার বিধান। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখনো নগরের অনেক আবাসিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। আবাসিক এলাকার অনেক সড়ক এমনিতেই সরু। তার ওপর অতিথিদের গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ভবনের সামনের সড়কের দুই পাশে এসব গাড়ি রাখা হয়। আবাসিক ভবনে অতিথিদের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা না থাকায় সেই চাপ শেষ পর্যন্ত এসে পড়ছে সবার ব্যবহারের সড়কের ওপর। এতে চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে বাড়ছে যানজট ও ভোগান্তি।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেছেন, ‘আবাসিক ভবনের নকশায় অতিথিদের গাড়ি রাখার জন্য দুই থেকে তিনটি পার্কিং স্পেস রাখতে হবে। অতিথিদের গাড়ি সড়কে রেখে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। ভবনের সামনে ‘অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখুন’— এ ধরনের সাইনবোর্ডও রাখা যাবে না। এরপরও এমন সাইনবোর্ড দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।’



