সাবেক ভিসি সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা—ছবি : আগামীর সময়
‘আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু পাঁচ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি মানা হচ্ছে না। আমরা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহাল চাই।’
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে এভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
রাউজানের পাহাড়তলীর চুয়েট ক্যাম্পাসে দুই সপ্তাহের আন্দোলনের পর ১৫তম দিনে শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো শহরে প্রতিবাদ কমসূচি পালন করলেন।
৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েট উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বাদ দিয়ে শেখ শরিফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে এই আন্দোলন চলছে।
দুই সপ্তাহেও চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে তারা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় ‘উই ওয়ান্ট সায়েম স্যার’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারলেও ১০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করলেন চুয়েট ভিসি
০৬ অক্টোবর ২০২৬
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের দায়িত্বকালের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য সায়েম দায়িত্বে থাকার স্বল্প সময়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা কার্যকর করা, শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি, স্মার্ট ক্লাসরুম, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সংযোগ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সামনে এনেছিলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, একটি প্রশাসন কাজ শুরু করার পর মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো প্রকাশ্য কারণ ছাড়াই সেই ধারাবাহিকতা কেন ভেঙে দেওয়া হলো?
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব বললেন, ‘আমরা এতদিন ধরে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছি। এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনের কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছি না। সরকার যেহেতু প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং শিক্ষার্থীরা সেই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছে, সেহেতু সরকারের কাছ থেকেই আমরা একটি সমাধান প্রত্যাশা করছি।’
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে মেডিকেল, নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সেবা এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।
উল্লেখ্য, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও গণঅবস্থান শুরু হয়।




