বন্যায় ভেঙেছে ৫৮২ গ্রামীণ সড়ক
- ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৯১ কিলোমিটার সড়ক
- দক্ষিণের ৫, উত্তরের ৪ উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
- মেরামতে আনুমানিক খরচ ১৮০ কোটি

সাতকানিয়া মধ্যম কাঞ্চনা সড়ক— সংগৃহীত
চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রামীণ সড়কের। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চারটি উপজেলা এবং উত্তর চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলায় সড়ক বেশি ভেঙেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে ডুবে থাকা এবং স্রোতের কারণে সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা এবং মহানগরের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দেয়।
সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে ছিল সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও লোহাগাড়া উপজেলা। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়কের দেখভাল করে। বন্যার পানি নামার পর থেকে তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিচ্ছে। আজ বুধবার পর্যন্ত ৫৮২টি সড়ক ভেঙে যাওয়ার তথ্য তাদের কাছে এসেছে। এসব সড়কের মোট ৩৯১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনোটির কার্পেটিং উঠে গেছে, কোনোটি মাঝখানে ভেঙে গেছে। আবার কোনোটির সিমেন্টের ঢালাই তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া কোনো কোনো কাঁচা সড়ক একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মাঝে মাঝে ভেঙেছে বেশিরভাগ সড়ক।
এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আগামীর সময় জানান, এখন পর্যন্ত তারা ৫৮২টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে। সড়কগুলোর ৩৯১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কের এই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়বে। সন্দ্বীপ, হাটহাজারীসহ কয়েকটি উপজেলার সড়ক এখনো জোয়ার কিংবা বন্যার পানির নিচে রয়েছে।
এলজিইডি কার্পেটিং সড়ক, এইচবিপি (হট বিটুমিনাস পেভমেন্ট সড়ক), রিইনফোর্সড সিমেন্ট কনক্রিট ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিং সড়ক এবং গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করে থাকে। উপজেলা সদর, ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং গ্রামের মধ্যে এসব সড়ক নির্মাণ করে থাকে এলজিইডি।
সাতকানিয়ায় মোট ৪০টি সড়কের ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচটি। ছয়টি সড়ক পুরোপুরি মাঝখান থেকে ভেঙে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জানান, এখনো পুরোপুরি জরিপ শেষ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাতকানিয়ার মতো বাঁশখালীতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে সাত দিনের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। আজও বাহারছড়া ইউনিয়নে পানি রয়েছে। তবে গণ্ডামারা, পুঁইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনীর জানান, আজ পর্যন্ত ৬০টি সড়কের ১১০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। শুধু সড়ক নয়, কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। পুরো জেলায় প্রায় ১৮০টি কালভার্ট কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনোটি আংশিক আবার কোনোটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ১৮০ কোটি টাকার মতো নির্ধারণ করা হয়েছে। সবগুলো হিসাব পাওয়া গেছে। এটা আরও বাড়বে।এরই মধ্যে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। যেসব সড়ক পুরোপুরি বন্ধ, সেগুলো চালু করাই প্রথম লক্ষ্য।





