‘নেতার স্তুতি গাওয়া যাবে না, আনা যাবে না ব্যক্তির ব্যানার’

ছবি : রনি দে, আগামীর সময়
যুবদলের কোনো কর্মীসভায় কোনো ধরনের ব্যক্তির নামে ব্যানার ও ঢোলবাদ্য নিয়ে আসা যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না।
একইসঙ্গে সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের নাম ধরে স্তুতি গাওয়ার প্রথা থেকেও বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর নুর আহমদ সড়কে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভার একপর্যায়ে ঢোলবাদ্য ও ব্যানার নিয়ে একদল নেতা-কর্মীর প্রবেশে ক্ষুব্ধ হন মোনায়েম মুন্না। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মাইক ও বাদ্য বন্ধ করে ব্যানার নামানোর নির্দেশ দেন।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বললেন, ‘এটি একটি কর্মীসভা। এখানে কেন ঢোল ও ব্যানার আসবে? যুবদলে ব্যক্তি-ব্যানার প্রদর্শনের কোনো প্রথা বা ঐতিহ্য নেই।’
এ সময় তিনি মহানগরের কোনো নেতা বা ওয়ার্ডের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দপ্তরের নেতাদের নির্দেশ দেন।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে মোনায়েম মুন্না চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত বললেন, সারা দেশে ও বিদেশে যুবদলের ৮২টি ইউনিটের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। যে কোনো কারণেই হোক, দীর্ঘ ২৩ মাস চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত রাখা হয়েছিল। তবে সাংগঠনিক প্রয়োজনেই এই কমিটিকে আবারও পুনর্বহাল করা হয়েছে। কমিটি না থাকা অবস্থায়ও চট্টগ্রামের নেতারা গত ২৩ মাসে অনেক বড় কর্মসূচি, সভা ও দাপ্তরিক কাজ সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি আবার পুনর্বহাল করতে হবে।’
‘এরপর আমরা যখন কমিটি পুনর্বহালের ফাইনাল ডিসিশন নিয়ে ঘোষণা দিলাম, কারও কাছ থেকে একটি নিগেটিভ কমেন্টসও পাইনি। সবাই পজিটিভলি নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একটা নিগেটিভ কথাও বলেননি। অনেকে আমাকে কল করে ধন্যবাদ দিয়েছেন।’
কর্মীসভায় উপস্থিত ১৫ট থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উদ্দেশে যুবদল সভাপতি বললেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত কোনো নেতার নাম বলার দরকার নেই। শুধু প্রধান অতিথি ও সভাপতি সম্বোধন করে মূল বক্তব্য দিতে হবে। সংগঠনের জন্য কোনটি ইতিবাচক ও ভালো, কেবল সেই গঠনমূলক প্রস্তাবগুলোই তুলে ধরতে হবে। ’
তিনি আরও বললেন, ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের গুরুতর অসুস্থ এক নেতাকে (আব্বাসউদ্দিন) দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এসেছি। তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করার জন্যই এই সফর। এরই ফাঁকে মাত্র দেড় দিনের নোটিশে এই কর্মীসভার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে বড় জমায়েত করেছে মহানগর যুবদল। সংগঠনকে সচল রাখতে সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, রাজশাহী মহানগরের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বক্তব্য রাখেন।






