আগামীর সময়

সিএমপির কমিশনার হলেন শওকত আলী

সিএমপির কমিশনার হলেন শওকত আলী

সংগৃহীত ছবি

১৫ বছরেরও বেশিসময় ধরে বঞ্চিত ছিলেন পুলিশ বাহিনীতে মেধাবী হিসেবে পরিচিত হাসান মো. শওকত আলী। পদোন্নতি পাননি, মেলেনি ‘মনমতো’ পোস্টিংও, বরং মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। পুলিশের সার্ভিস রুল অনুযায়ী, নিয়মিত পদোন্নতি পেলে ২০২০ সালেই উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হওয়ার কথা তার। কিন্তু ডিআইজি হতে অতিরিক্ত ৫ বছর সময় লেগেছে তার।

এই বঞ্চনার অবসান হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ডিএমপি হয়ে এবার অভিষেক হলো সিএমপি কমিশনার পদেও। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার পদকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বাহিনীতে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার পদে যোগ দিয়েছেন সদ্য পদায়ন হওয়া ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

পেশাগত জীবনে বঞ্চনার শিকার হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মৃদু হেসে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন তিনি। কিছুক্ষণ ভেবে বাহিনীর নীতিমালায় গরমিলের বিষয়ে একটি ধারণা উপস্থাপন করেন এভাবে, ‘প্রত্যাশা করি, যেকোনো পর্যায়ের কর্মীকে তার পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং মেধার ভিত্তিতে যেন মূল্যায়ন করা হয়। মানুষকে যেন মানুষের মতো মূল্যায়ন করা হয়।’

দীর্ঘসময় পর সিএমপি কমিশনারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে পর্দার আলোয় এসেছেন একরাশ স্বপ্ন নিয়ে। তার কাছে কমিশনার পদের অর্থ হচ্ছে, ‘৭০ লাখ নগরবাসীর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাত্রার ভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।’

আগামীর সময়ের প্রশ্নের জবাব সরাসরি দেন, ‘প্রথম বিষয় হচ্ছে চাঁদাবাজি ও মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে কাজ করব। আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে সচেষ্ট থাকব। থানায় গিয়ে মানুষ যাতে সেবা পান, হয়রানির শিকার না হন, থাকবে সেই চেষ্টা।’

এদিন সকালে সিএমপির বিদায়ী কমিশনার হাসিব আজিজের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন হাসান মো. শওকত আলী। এরপর তিনি সিএমপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে মতবিনিময় করেন। বিকালে তিনি নগরীর লালদিঘীতে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন বলে জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিষেক মুহূর্তে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, মো. হাবিবুর রহমান, শেখ শরীফুল ইসলাম, নেছার উদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেন হাসান মো. শওকত আলী। শুরুতে সিএমপিতে বেশ কিছুদিন সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালের পর এক দফায় পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেলেও প্রায় ১৫ বছর পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। এর মধ্যে তিনি বিভিন্ন জেলায় এবং র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও যান তিন দফায়। ২০২২ সালের দিকে সিএমপিতে তার পদায়ন হয়। এসময় তিনি গোয়েন্দা ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


    শেয়ার করুন: