‘আল্লাহ এ কেমন বিচার’

ছবিঃ আগামীর সময়
৪ এপ্রিল বাবা-মা-ভাই-বোনদের নিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করেছেন সামিয়া জাহান তানিশা। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বড় ভাইয়ের বিয়ে। এজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দারুণ আনন্দে। কিনেছিলেন নতুন পোশাক। কিন্তু সবকিছু থমকে গেছে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে। চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন হাজেরা তুজ ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী।
পরিবারের দাবি, তানিশাকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করেছে সামিন নামের এক যুবক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনায় মেয়েটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
তানিশার বাড়ি চাঁদপুরে। পরিবারের সঙ্গে থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের রাহাত্তারপুল এলাকায়। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে যাওয়ার সময় ছোট বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। দুপুর দুইটার দিকে ফিরে আসার কথা। কিন্তু আড়াইটার দিকে বাবা আবু তালেব পাটোয়ারির ফোনে দুর্ঘটনার খবর দেয় পুলিশ।
আটক সামিনের বরাতে বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ‘কলেজ থেকে প্রাইভেট কারে পতেঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন তানিশা। গাড়ি চালাচ্ছিলেন সামিন। দুপুর দুইটার দিকে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় উড়াল সড়কের দেয়ালে। এতে গুরুত্বর আহত হন তানিশা। সামিন এবং তাঁর অপর এক বন্ধু তাকে নিয়ে আসেন চমেক হাসপাতালে।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তুহিন শুভ্র জানালেন, মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে মেয়েটিকে। পরে হাসপাতালে পৌঁছে সামিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে তানিশার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামিনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তানিশার মা নাসিমা সুলতানা মোবাইলে জন্মদিনের কেক কাটার ছবি দেখিয়ে বার বার বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে কী ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করল। কয়দিন পর আমার ছেলের বিয়ে। কত কিছু প্ল্যান করেছে বিয়ের জন্য। লেহেঙ্গা পরবে। আজ মেয়ে নেই। আমার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে মেরে ফেলেছে সামিন।
হাসপাতালের লাশঘরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তানিশার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু তালেব। আর্তনাদ করছিলেন, ‘আমার মেয়ের জন্ম এই মেডিকেলে। আজ এই মেডিকেলের লাশঘরে পড়ে আছে সে। আল্লাহ এ কেমন বিচার।’



