উদয়ন এক্সপ্রেস
বিদ্যুৎহীন ‘এসি বগিতে’ ৫৬ যাত্রীর দুর্বিষহ যাত্রা

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’র শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিকল হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৫৬ জন যাত্রী। প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট কেটেও ‘এয়ার টাইট’ (রুদ্ধশ্বাস) বগিতে গরমে ছটফট করতে হয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে সিলেট পৌঁছায় ট্রেনটি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় উদয়ন এক্সপ্রেস। ট্রেনের অতিরিক্ত সংযুক্ত ‘এক্স-২’ এসি বগিতে যাত্রার শুরু থেকেই এসি অন-অফ হতে থাকে। ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে পৌঁছানোর পর বগিটি পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে লাকসাম স্টেশনে ত্রুটি মেরামতের জন্য ট্রেনটিকে প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেখানে বিদ্যুৎ এলেও এসি আর সচল করা সম্ভব হয়নি। এয়ার টাইট বগিতে বাতাস ঢোকার বিকল্প পথ না থাকায় ভেতরে থাকা যাত্রীদের এক বীভৎস ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের ব্যবসায়ী ও ওই বগির যাত্রী বাপ্পী তঞ্চঙ্গ্যা তাঁর দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য, ‘যেখানে সাধারণ এসি বগির ভাড়া ৯০৯ টাকা, সেখানে ১২০২ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু পুরো পথ আমাদের গরমে সিদ্ধ হতে হয়েছে।’
এদিকে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে আজ শুক্রবার সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি সিলেট পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা পৌঁছায় সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে।
এসি বিকল হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বললেন, ‘ফেনী স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই সমস্যাটি শুরু হয়। লাকসামে ট্রেনটি অপেক্ষমাণ রেখে মেরামত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে ছাড়ার পর কয়েক মিনিট ঠিক থাকলেও এসি আবার নষ্ট হয়ে যায়। পরে ট্রেনটি সিলেটে পৌঁছালে বগিটি পাল্টানো হয়।’
তিনি আরও জানান, বগিটি সম্প্রতি ওয়ার্কশপ থেকে মেরামত করে আনা হয়েছিল। নতুনভাবে মেরামত করার পরও কেন এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







