দাম কমছে চীনের গাড়ির

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি (বৈদ্যুতিক গাড়ি) জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে চীনা ব্র্যান্ড (বিওয়াইডি) দেশে ইভির বাজারে আলোচনায় রয়েছে। একটি ইভি গাড়ির দাম দেশে প্রায় ৬০ লাখ টাকা থেকে শুরু। নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে যেসব পরিবারে এরই মধ্যে দুটি গাড়ি রয়েছে, তারা তৃতীয় গাড়ি হিসেবে আগ্রহী হচ্ছেন ইভি কেনার প্রতি।
সরকারি সুবিধার সঠিক ব্যবহার আমদানিকারকরা নিশ্চিত করতে পারলে ইভির নতুন গ্রাহক তৈরি হবে। দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার আরও বাড়বে, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ঘটবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে জ্বালানি খাতে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ইভি আমদানিতে সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে ইভি গাড়ির দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ইভি আমদানিতে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুল্কহার কমিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি নিবন্ধন ফি (রেজিস্ট্রেশন ফি) মওকুফের ঘোষণা এসেছে। প্রচলিত শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তে দেশে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে মূল্যস্তরভিত্তিক শুল্ক কাঠামো।
বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সি ব্রি ফ্রেশের চেয়ারম্যান সামশুল ইসলাম ১৫ মাস ধরে বিওয়াইডি ব্র্যান্ডের একটি ইভি ব্যবহার করছেন। তার ভাষ্য, অনেক সন্তুষ্ট। গাড়ির সঙ্গে দুটি চার্জার দেওয়া হয়েছিল। একটি বাসায় এবং অন্যটি অফিসে স্থাপন করেছি। চট্টগ্রামের বাইরে গেলে কক্সবাজারে চার্জিং সুবিধা আছে। চৌদ্দগ্রামেও একটি বড় চার্জিং স্টেশন রয়েছে। স্টেশনের সংখ্যা বাড়লে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যাবে। আট বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে গাড়িটিতে।
দেশ জুড়ে ইভির চার্জিং স্টেশন এবং বিক্রয়োত্তর সেবা (আফটার-সেলস সার্ভিস) নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর। বললেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তির প্রতি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিপণনকারীদের আরও বেশি যত্নবান হতে হবে। গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি করতে হবে আস্থা।’
প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ইভি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কহার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সর্বনিম্ন ২৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের গাড়ি আমদানিতে শুল্কহার ৬১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই শ্রেণির গাড়ির সর্বনিম্ন শুল্কহার ছিল ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ শুল্কহার ৩২ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে একটি ইভি গাড়ির দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
চীনের বিওয়াইডি গাড়ি বাংলাদেশে বাজারজাত করছে সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড।
গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিওয়াইডির প্রধান গ্রাহক হচ্ছেন টয়োটা হ্যারিয়ার ব্যবহারকারীরা। প্রিমিও বা অ্যালিয়ন শ্রেণির তুলনামূলক কম দামের ইভি এখনো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আসেনি। ফলে ইভির গ্রাহকশ্রেণি এখনো মূলত উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।




