ঈদের ছুটিতে পতেঙ্গা-ডিসি পার্কে দর্শনার্থীদের ঢল

ঈদুল আজহার ছুটিতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: রনি দে
চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, বোট ক্লাব, কর্ণফুলী টানেল ও ডিসি পার্ক এলাকায় দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় পুরো পর্যটন এলাকা পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত বিনোদনকেন্দ্রে।
চট্টগ্রামের বোট ক্লাব ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত ডিসি পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় গড়ে উঠেছে একের পর এক বিনোদনকেন্দ্র। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এসব স্থানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।
বিকেল গড়াতেই পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। সমুদ্রের ঢেউ, নোঙর করা জাহাজ এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। তবে ঈদের ছুটিতে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
দর্শনার্থী ইশরাক শাহরীয়া জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে বছরের অন্য সময় ঘুরতে আসার সুযোগ কম হয়। তাই ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে পতেঙ্গায় ঘুরতে এসেছেন।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও দিগন্তজোড়া নীল আকাশ, অন্যদিকে নগরজীবনের ব্যস্ততা, জনবসতি এবং দেশের বৃহত্তম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকার সারি সারি কারখানা এই সড়ককে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা।
এই পথের আরেক বড় আকর্ষণ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীতল টানেল হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি চালুর পর থেকেই পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবার নিয়ে শুধু টানেলের ভেতর দিয়ে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নিতে সেখানে ভিড় করছেন। প্রায় ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল চট্টগ্রাম নগরী ও আনোয়ারাকে যুক্ত করেছে।
অন্যদিকে ফৌজদারহাটের ডিসি পার্কেও ছিল দর্শনার্থীদের ঢল। উন্মুক্ত পরিবেশ, লেক, ফুলের বাগান এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু পতেঙ্গা বা ডিসি পার্ক নয়, রানী রাসমণি ঘাট, কর্ণফুলী নদীর তীর, নদীপাড়ের ঝাউবাগান, চিটাগং বোট ক্লাব এবং গানার্স ট্রেনিং এরিয়াতেও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও পরিবার নিয়ে আনন্দ-আয়োজন, কোথাও বন্ধুদের আড্ডা। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পুরো এলাকাজুড়ে বিরাজ করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।






